
Body Pain & Vitamins:আপনার কিশোরী মেয়ের কি প্রায়ই পিঠব্যথা ও গাঁটে ব্যথার অভিযোগ থাকে? আপনার কলেজপড়ুয়া ভাইপো কি সবসময় নিস্তেজ থাকে?কেন অল্প বয়সেই গ্রাস করছে ব্যথার মতো কষ্ট? কোন ভিটামিনের অভাব দায়ী এর জন্য? জানুন
চিকিৎসকরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব, যা পিঠব্যথা ও গাঁটে ব্যথার কারণ, আজকাল সাধারণ হয়ে উঠছে এবং এটি একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য উদ্বেগের বিষয়। ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট বিকাশ আলুওয়ালিয়া বলেছেন যে, গত কয়েক বছরে তরুণদের মধ্যে, বিশেষ করে দেশের মেট্রো শহরগুলিতে অল্পবয়সিদের মধ্যেও শরীরের গাঁটে গাঁটে ব্যথার সমস্যা বাড়ছে৷ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও তাঁদের মধ্যে গায়ে হাত পায়ে ব্যথা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে৷ এই সমস্যা আগে দেখা যেত বয়স্কদের মধ্যে৷ এখন আকছারই এই অসুবিধের মুখে পড়তে হচ্ছে তরুণ তরুণীদের৷ (AI Image)
চিকিৎসকের মতে, কোমর ব্যথা, পায়ে ব্যথা, গাঁটে ব্যথা এবং অবসাদের মতো উপসর্গ নিয়ে আসা তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বাড়ছে, যা ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন ডি৩-এর অভাবজনিত। এটি উদ্বেগের কারণ৷ ১৬ বছরের মতো কিশোর-কিশোরীরাও, যারা জীবনের বাড়ন্ত পর্যায়ে রয়েছে, এই ধরনের সমস্যায় পড়ছে৷ আজকাল ভিটামিন ডি-এর অভাব খুব সাধারণ হয়ে উঠছে এবং এটি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে প্রভাবিত করছে। শিশুদের মধ্যেও এটি সাধারণ হয়ে উঠছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে প্রতি দশকে ভিটামিন ডি-এর অভাব বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই সমস্যার মূল কারণ জীবনযাত্রা-সম্পর্কিত। এর শুরুটা হয় একেবারে গোড়া থেকে – যখন একজন নারী গর্ভবতী হন। যদি তার শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকে, তাহলে শিশুরও সেই ঘাটতি হবে। যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে স্তনদুগ্ধ না খাওয়ানো হয়, তাহলে বড় হয়ে শিশুটির এই সমস্যা-সহ আরও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেবে। কুড়ি থেকে ত্রিশের কোঠার তরুণ কর্মজীবীরা, যাদের বেশিরভাগই ডেস্ক জব করেন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে কাজ করেন, তারাও একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে আসেন। তাঁদের হাড় সময়ের আগেই দ্রুত ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে৷
সূর্যালোক হল ভিটামিন ডি-এর সবচেয়ে বড় উৎস—যা আমরা নানা অজুহাতে সচেতনভাবে এড়িয়ে চলি। দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের পরামর্শদাতা আশু আগরওয়াল বলেন, “আমরা ফর্সা ত্বকের প্রতি মোহগ্রস্ত৷ যদিও আমাদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই বেশি মেলানিন রয়েছে যা ত্বককে রক্ষা করার জন্য তৈরি। আমাদের ত্বক পশ্চিমীদের মতো নয়, যাদের মধ্যে ত্বকের ক্যানসারেরও প্রকোপও বেশি। তাই ওখানকার মানুষ প্রচুর পরিমাণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে এবং রঙিন চশমা পরে বসে যা অতিবেগুনি রশ্মি আটকে দেয়। এটি সবসময় স্বাস্থ্যকর নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, দূষণও সূর্যরশ্মি আটকে দেয়।
আজকালকার বাচ্চারা বাইরে তেমন খেলাধুলা করে না। তারা স্কুল থেকে টিউশনে ছোটাছুটি করে আর যখন খেলে, তখন বেশিরভাগ সময় নিজেদের ঘরে ভিডিও গেম খেলেই কাটায়। ফলে তারা পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না। এছাড়াও, ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভোগা সব বাচ্চাদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা হল, তারা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খায় না। তাহলে ক্যালসিয়াম কোথা থেকে আসবে? ফাস্ট ফুড এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিটামিন ডি-এর স্বাভাবিক মাত্রা হল ৩০ (ন্যানোগ্রাম প্রতি মিলিলিটার রক্ত) এবং মাঝে মাঝে আমরা ৩-৪ ন্যানোগ্রাম আছে, এমন তরুণ তরুণীরাও আছেন৷ ভাল খবর হল, আজকাল ভিটামিন ডি পরীক্ষা সহজলভ্য এবং আরও নির্ভরযোগ্য, তাই আপনি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রেখে এর উপর নজর রাখতে পারেন এবং আপনার সন্তানরাও যেন তা মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত আপনার স্বাস্থ্য আপনার হাতেই।
ভিটামিন বি-১২: এই ভিটামিনের অভাবে হাত-পায়ে দুর্বলতা, অসাড় ভাব বা ঝিনঝিন করার মতো স্নায়বিক সমস্যা হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় পায়ের পেশিতে ব্যথা বা টান ধরার অনুভূতি হতে পারে। ভিটামিন বি১, বি৬ এবং ভিটামিন ই-এই ভিটামিনগুলো স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ঠিক রাখতে ও পেশির খিঁচুনি দূর করতে সাহায্য করে।
(Feed Source: news18.com)
