
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান
ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্য, রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ফাইবার রক্তে শর্করার স্পাইক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যা অন্ত্রে কার্বোহাইড্রেট শোষণকে ধীর করতে সহায়তা করে। তাছাড়া ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করে। যার ফলে বার বার খিদের অনুভূতি কমে যায়। ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্যগুলি হল – ওটমিল, বাদাম, বিভিন্ন শাকসবজি, আপেল, কমলালেবু, ব্লুবেরি, প্রভৃতি।

চিনি খাওয়া কম করুন
চিনি শরীরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এগুলি খালি ক্যালোরি ছাড়া আর কিছুই নয়। শরীর এই সাধারণ শর্করাগুলিকে খুব সহজেই ভেঙে ফেলে, যার ফলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, শর্করা গ্রহণ ইনসুলিন নিঃসরণে বাধা দেয়। শরীর রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়।

অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন
বিশেষজ্ঞরা, ভারি খাবার খাওয়ার পরিবর্তে অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটি আপনাকে অস্বাভাবিক ভাবে সুগার লেভেল ওঠানামা রোধ করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে তিনবার খাবার খাওয়ার পরিবর্তে, বারে বারে অল্প পরিমাণে খাবার খেলে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বেশি করে জল পান করুন
পর্যাপ্ত জল পান না করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। শরীর ডিহাইড্রেট হলে, শরীরে ভ্যাসোপ্রেসিন নামক একটি হরমোন উৎপাদিত হয়। কিডনির তরল ধরে রাখতে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত চিনি বের করে দিতে বাধা দেয়। তাছাড়া, লিভারও রক্তে অতিরিক্ত শর্করা সরবরাহ করে। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে ভুলবেন না যেন।

খাবারে শুধু কার্বোহাইড্রেট রাখলে হবে না
রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে প্রোটিন, ফাইবার , চর্বি জাতীয় কিছু পুষ্টিকর উপাদানের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কার্বোহাইড্রেট রক্ত প্রবাহে শর্করা বৃদ্ধি করবে, শরীরে পুষ্টি বাড়াতে সাহায্য করবে না। প্রোটিন, ফাইবার , চর্বি জাতীয় খাদ্যের সঙ্গে যদি কার্বোহাইড্রেট একত্রিত হয়, তখন রক্ত প্রবাহে চিনি নির্গত করার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় কারণ শরীর এই পুষ্টিগুলি হজম করতে সময় নেয়।
