
llenge: শৈশব থেকে গঙ্গার বুকে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে টানা ৪৮ দিনের হাড়কাঁপানো নিশাচর প্রস্তুতি, কোন রহস্যের উপর ভর করে মৃত্যুর খাঁচাকে জয় করলেন মুকেশ? জল থেকে উঠেই নিজের মুখেই শোনালেন সেই রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা।
জলের নিচে ৩০ ঘণ্টা লড়াইয়ের রহস্য জানালেন মুকেশ
হাওড়া, রাকেশ মাইতি: জলের নীচে ৩০ ঘণ্টা লড়াই শেষে অ্যাকরিয়ামের জল থেকে বীরের বেশে ফিরল মুকেশ! অদম্য জেদ আর বুকভরা সাহসকে সঙ্গী করে অবশেষে মিলল জয়। টানা ৩০ ঘণ্টা জলের নিচে থেকে কীভাবে চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করলেন, সেই অভিজ্ঞতা জানালেন ২৬ বছর বয়সী মুকেশ নিজের মুখেই।
শৈশব থেকে জল তার সঙ্গী, সেই শৈশবেই গঙ্গা নদীকে আপন করে নিয়েছিল সে। সাঁতার জলে ডুব দেওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ জলে থাকার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের আগে নিয়ে সফল হয়েছে। অ্যাডভেঞ্চার ওয়াটার স্পোর্টসে নতুন কিছু করে দেখানো, প্রতিবারেই ছিল চমক। কখনও দু’হাত বেঁধে গঙ্গায় ১০ কিলোমিটার সাঁতার, একটানা ১১৫০০ ডুব দেওয়া। বাংলাদেশ থেকে মায়ের বাড়ি সাঁতার। সেইমতো এবার টানা ৩০ ঘণ্টা জলের নিচে থাকার চ্যালেঞ্জ। মুকেশ জানায়, এই চ্যালেঞ্জ নামার আগে প্রায় ৪৮ দিন অনুশীলন করতে হয়েছে। এই রেকর্ড আরও কারও আছে কি জানা নেই। এই চ্যালেঞ্জ ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ কঠিন। তবে দীর্ঘদিন অভ্যাসের ফলে সহজ হয়েছে। এর জন্য রাত ১২ টা থেকে প্রতিদিন সকাল ৬-৭ টা পর্যন্ত জলে থাকার অভ্যাস করতে হয়েছে। মুকেশ আরও জানায়, ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চারে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সময় সমস্যার মুখেও পড়তে হয়। চ্যালেন নিউওয়রক পূর্বে বিভিন্ন বিভাগে অনেক সময় অনুমতি পেতে দেরি হয়। কখনও আবার অনুমতি মেলেনা। এবার হাওড়া থানার পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকদের সহযোগিতায় এই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করে ৩০ ঘণ্টা পর কাঁচের অ্যাকরিয়ামের জল থেকে বীরের মতো মাথা তুলে দাঁড়াল যুবক মুকেশ। ঐতিহাসিক এই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইল পবিত্র গঙ্গা নদী। গঙ্গার পাড়ে তখন উপচে পড়ছে উৎসুক মানুষের ঢল, আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত স্বয়ং রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাই। চ্যালেঞ্জ শুরু করা থেকেই গঙ্গা পাড়ের চত্বর জুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। খোলা আকাশের নিচে রাখা একটি অ্যাকরিয়াম, সেই জলে ডুবে মুকেশের শরীর। উপস্থিত জনতার চোখে যেমন ছিল কৌতূহল, তেমনই মনে ছিল একরাশ সংশয়—পারবে তো এই তরুণ? এই লড়াই যে কোনও যুদ্ধজয়ের চেয়ে কম কিছু ছিল না। টানা ৩০ ঘণ্টা জলের নিচে থাকায় শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা ছিল প্রতি মুহূর্তে।
৩০ ঘণ্টা আগের আর পরের মুকেশের চেহারায় আকাশ-পাতাল তফাত। হাত-পা ফ্যাকাশে, শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে, কিন্তু চোখেমুখে এক আকাশ জয়ের আনন্দ। এই অভাবনীয় সাফল্যে মন্ত্রী উমেশ রাই মুকেশকে অভিনন্দন জানান এবং শুরুতেই তাঁর দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। দরিদ্র পরিবারের এই লড়াকু ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী আশ্বাস দেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে তাকে কীভাবে এগিয়ে দেওয়া যায় তা দেখা হবে, পাশাপাশি তাঁর একটি চাকরির ব্যবস্থাও তিনি করবেন। এক যুবকের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে আরও একবার হার মানল সমস্ত ভয়।
