)
Monsoon Loss in Mumbai: জলবায়ু ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম হল ভারত
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কলকাতার একটু বৃষ্টিতেই আমরা হইচই শুরু করি, কিন্তু দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ের বর্ষার রূপ দেখলে চোখ কপালে উঠবে! কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই থমকে গেছে বাণিজ্যনগরী। বাতিল ১৭টি বিমান, বন্ধ লোকাল ট্রেন, ঘরে বসে কাজ করছেন হাজার হাজার চাকুরিজীবী। কিন্তু জানেন কি, প্রতি বছর এই বর্ষার খেসারত দিতে গিয়ে কত হাজার কোটি টাকা লোকসান হয় মুম্বইয়ের? কেন এই বিপর্যয়?
কলকাতার বর্ষা নিয়ে আমরা যতই তুফান তুলি না কেন, বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের বেহাল দশার কাছে তা কার্যত নস্যি! গত কয়েক দিনের রেকর্ড ভাঙা বর্ষণে ইতিমধ্যেই জলমগ্ন মায়ানগরীর একাধিক এলাকা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকি বহু অফিসে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, কোথাও আবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর। শুধু সড়ক বা রেল পথই নয়, বিপর্যস্ত আকাশপথও। ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে ১৭টি বিমান এবং দেরিতে উড়ছে কয়েকশো ফ্লাইট। সব মিলিয়ে থমকে গেছে দেশের আর্থিক মেরুদণ্ড।
প্রতি বছর বর্ষার বৃষ্টিতে ঠিক কত টাকার ক্ষতি
ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট এবং জলবায়ু গবেষকদের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর খতিয়ান। গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী, অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং জল জমার কারণে প্রতি বছর মুম্বইয়ের গড়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার— অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১,৪৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। শুধু তাই নয়, ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের তথ্য বলছে, এই শহরে প্রতি বছর বর্ষাজনিত কারণে গড়ে ২,৭১৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
মূলত ৪টি প্রধান কারণে প্রতি বছর এই বিপুল আর্থিক ধস নামে মুম্বইয়ে
মুম্বই মানেই দেশের আর্থিক ইঞ্জিন। আর এই ইঞ্জিনের লাইফলাইন হল লোকাল ট্রেন, যা প্রতিদিন প্রায় ৭৫ লাখ যাত্রী বহন করে। রেললাইনে জল জমলেই স্তব্ধ হয়ে যায় এই লাইফলাইন। লাখ লাখ চাকুরিজীবী কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না। স্তব্ধ হয়ে যায় কর্পোরেট সেক্টর ও স্থানীয় ব্যবসা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জিডিপিতে।
বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জমা জল পাম্প করে নামানো, ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং হাজার হাজার খানাখন্দ মেরামতের পেছনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা জল ঢালতে হয় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনকে (BMC)। তার ওপর আন্ধেরি সাবওয়ের মতো ব্যস্ততম সংযোগকারী সড়কগুলো জলে ডুবে যাওয়ায় মাইলের পর মাইল বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকে। এতে যেমন নষ্ট হয় বিপুল জ্বালানি, তেমনই পুরোপুরি ভেঙে পড়ে সাপ্লাই চেইন।
মুম্বইয়ের আবাসন বাজার দেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল। কিন্তু বর্ষার জল এই কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্যকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। বান্দ্রা, আন্ধেরি বা জুহুর মতো পশ (Posh) এলাকার বিলাসবহুল বহুতলগুলোর বেসমেন্টে জল ঢোকা, দেওয়ালে ড্যাম্প ধরা বা ড্রেনেজ লাইনের ত্রুটি সামনে আসায় সাময়িকভাবে সম্পত্তির দাম পড়ে যায়। ফ্ল্যাট মালিকদের পকেট থেকে চলে যায় মেরামতের মোটা টাকা। পাশাপাশি, এই ৩-৪ মাস নতুন বাড়ি কেনাবেচা বা রেজিস্ট্রি একপ্রকার থমকে যায়।
বর্ষার জমা জল মানেই রোগের ডিপো। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, লেপ্টোস্পাইরোসিস এবং গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো জলবাহিত ও মশাবাহিত রোগের প্রকোপ এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলস্বরূপ, শহরের হাসপাতাল ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসার পেছনে চলে যায় হাজার হাজার টাকা, আর অসুস্থতার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় আলাদাভাবে।
কেন এই দশা?
জলবায়ু ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম হল ভারত। পরিবেশবিদদের দাবি, মুম্বইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্সের মতো উন্মুক্ত সবুজ অঞ্চল যেভাবে দিনের পর দিন সংকুচিত হচ্ছে এবং যত্রতত্র কংক্রিটের জঙ্গল বাড়ছে, তার ফলেই বৃষ্টির জল মাটির নিচে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি, এখনই যদি উপযুক্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত নগর পরিকল্পনা না করা যায়, তবে আগামী দিনে এই বার্ষিক ১১,৪৫০ কোটি টাকার লোকসান আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
(Feed Source: zeenews.com)
