)
Dead in Landslide Wayanad Kerala: কেরলের পাহাড়ি জেলা ওয়েনাড়ে আবার বড়সড় বিপর্যয়! ওয়েনাড়ের এক গুরুত্বপূর্ণ টানেল প্রকল্পের কাজ চলছিল। ঠিক কাছেই নামল ধস। আকস্মিক ঘটে যাওয়া এই ধসের ঘটনায় অন্তত সাতজন মাটির নীচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো অনবরত বর্ষণের মাঝে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতিমধ্যেই অন্তত বহু শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেরলের পাহাড়ি জেলা ওয়েনাড়ে আবার বড়সড় বিপর্যয়! ওয়েনাড়ের গুরুত্বপূর্ণ এক টানেল প্রকল্পের কাজ চলছিল। ঠিক এর কাছেই নামল এই ধস। আর আকস্মিক ঘটে যাওয়া এই ধসে অন্তত সাতজন মাটির নীচে চাপা পড়ে আছেন বলে প্রাথমিক ভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল। মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো অনবরত বর্ষণের মাঝে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ইতিমধ্যেই অন্তত বহু শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন। ওয়েনাড় জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ টানেল বা সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পের ঠিক কাছেই ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ধসের ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। এখনও অনেকে মাটির নীচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়েনাডের মতো ভূ-প্রকৃতিতে এ ধরনের প্রকল্পের কাজ করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে পরিবেশবিদেরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে রেখেছেন। সেই প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এল
প্রশ্নের মুখে প্রজেক্ট
মীনাক্ষী ব্রিজের কাছাকাছি এলাকায় আনাক্কামপোয়িল-কাল্লাডি-মেপ্পাডি টুইন টানেল নির্মাণের কাজ চলছিল। তখনই পাহাড়ের বিশাল এক অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে নিচে নেমে আসে। এই সুড়ঙ্গ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে কেরলের মালাপ্পুরম এবং ওয়েনাড জেলার দূরত্ব অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তার আগেই ভয়াবহ বিপর্যয় এই প্রজেক্টটাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
অভিশপ্ত ওয়েনাড
সাম্প্রতিক এই ধসের ধাক্কা স্বভাবতই স্থানীয় মানুষকে ২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত বর্ষার দিনগুলির কথাও মনে করছেন। সেবার ওয়েনাড়ের মুণ্ডাক্কাই এবং চুরুলমালায় ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ভূমিধসের জেরে ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এবারের ধসটি যে মীনাক্ষী ব্রিজ এলাকায় ঘটেছে, তা সেই দুর্গত মুণ্ডাক্কাইয়ের ঠিক কাছেই অবস্থিত হওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের।
ভয়াবহ উদ্ধারকাজ
পাহাড়ি ঢাল বেয়ে অনবরত কাদা ও পাথর গড়িয়ে আসার কারণে প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছিল। তবে স্থানীয় যুবকদের তৎপরতাতেই বেশ কয়েকজন চাপা পড়া শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই কালপেট্টা থেকে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের প্রশিক্ষিত জওয়ানরা প্রয়োজনীয় আধুনিক উদ্ধার সামগ্রী ও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অকুস্থলে এসে পৌঁছন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ দ্রুত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) একাধিক দলকে এখানে মোতায়েন করে। এনডিআরএফ জওয়ানরা কাদা ও পাথরের নীচে আটকে থাকা সাতজন শ্রমিকের অবস্থান জানার চেষ্টা করছেন। ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে বেগ পেতে হলেও উদ্ধারকারীরা অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
৪০০ মৃত্যু
সেই জুলাই ল্যান্ডস্লাইড! আগের বার ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই ঘটেছিল সেই মহাপ্রলয়। এবারও সেই অভিশপ্ত জুলাই। এবার মাসের প্রথমেই। ২০২৪-এর ধসের পরে বলা হয়েছিল, সেটা ছিল কেরালার ইতিহাসের ভয়ংকরতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ– ডেডলিয়েস্ট ন্যাচারাল ডিজাস্টার। সেবার মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ৫৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। এর জেরেই নেমে ছিল সেই ভয়াল ধস। ধুয়েমুছে গিয়েছিল গ্রামের পর গ্রাম। অন্তত ৪০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন।
উন্নয়ন বনাম পরিবেশ
বিতর্ক ছিলই। উসকে উঠল সেই বিতর্ক। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মতো অতি সংবেদনশীল পার্বত্য এলাকায় যখন ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার মতো কাজ করা হয়, তখন পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ শিলাস্তর দুর্বল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, পশ্চিমঘাট অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র এতই ভঙ্গুর যে, সামান্যতম হস্তক্ষেপ বা অবৈজ্ঞানিক কাজকর্ম এখানে বিশাল বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আনছেও। তাই বিশাল এই সুড়ঙ্গ প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে পরিবেশবিদরা প্রথম থেকেই সন্দিহান ছিলেন। সেই সন্দেহ আরও বাড়ল। এই ধসের পর কেরলের পরিবেশপ্রেমীরা এই টানেল প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের ছাড়পত্র নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবিও তুলছেন। ভৌগোলিক অতি-সংবেদনশীলতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে এবং পাহাড়ের ধারণক্ষমতা বিচার না করে পরিকাঠামোগত আগ্রাসন চালানোর কুফল কেরালা বারবার প্রত্যক্ষ করছে বলেও মনে করাচ্ছেন তাঁরা।
(Feed Source: zeenews.com)
