)
Bangladesh Govt Employee Salary Hike: কমিশনের মূল সুপারিশ পুরোপুরি কার্যকর করতে বছরে বাড়তি প্রায় ১ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই আর্থিক চাপ সামলাতে পর্যালোচনা কমিটি মূল সুপারিশের কিছু অংশ ছেঁটে বার্ষিক খরচ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন বেতন কাঠামোর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন বাংলাদেশ ও এই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। দুই বাংলাতেই সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনই সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং বেতন কাঠামো সংস্কারে আসল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তবে এই সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি দুই দেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশে যখন নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে, এই রাজ্যে তথন সেই প্রক্রিয়া সবেমাত্র শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ এগারো বছর পর বাংলাদেশে নতুন বেতন কাঠামো বা নবম জাতীয় বেতন কমিশন (National Pay Commission) বাস্তবায়নের কাজ একেবারে শেষ ধাপে পৌঁছেছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত বৈঠকের পর বিষয়টি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।
নতুন এই সুপারিশে বর্তমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখেই সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না; সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন নিচের সারির বা নিম্ন আয়ের কর্মীরা।
প্রস্তাবিত বেতন স্কেল: সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশেষ স্তর: চালু ২০টি গ্রেডের বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য একটি আলাদা স্তর তৈরি করা হচ্ছে।
ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
বাস্তবায়নের কৌশল ও আর্থিক জট
কমিশনের মূল সুপারিশ পুরোপুরি কার্যকর করতে বছরে বাড়তি প্রায় ১ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই আর্থিক চাপ সামলাতে পর্যালোচনা কমিটি মূল সুপারিশের কিছু অংশ ছেঁটে বার্ষিক খরচ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে।
অনলাইন বেতন নির্ধারণী পদ্ধতি বা আইবাস (iBAS)-এর জটিলতা এড়াতে মূল বেতন দুই ধাপে না দিয়ে একবারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই এই নতুন মূল বেতন কার্যকর হতে পারে, তবে তা কমিশনের সুপারিশ করা হারের চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে। অন্যদিকে, অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে পরবর্তী অর্থাৎ ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় উঠবে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে চূড়ান্ত গেজেট জারি করা হবে।
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর
শুধু কর্মরত কর্মচারীরাই নন, ওপার বাংলার নতুন এই কাঠামোতে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্যও বড়সড় সুবিধার কথা বলা হয়েছে:
১. মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম হলে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
২. ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন হলে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি হলে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
৩. বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানো হবে, যেখানে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
এই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন, প্রক্রিয়া সবে শুরুর মুখে
ওপার বাংলায় যখন নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভার সিলমোহরের অপেক্ষা, এপার বাংলায় ছবিটা ঠিক উলটো। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের (Sixth Pay Commission) মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ শেষ হয়ে গেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা গত ১৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
দুই বাংলার মূল ফারাক
দুই দেশের সরকারি কর্মচারীরাই এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন বেতন কাঠামোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু বড় ফারাকটি হলো বাস্তবায়নের গতিতে। বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকার আসার পর নির্দিষ্ট শতাংশ ও সময়সীমা নির্ধারণ করে বেতন বৃদ্ধির কাজ প্রায় গুটিয়ে এনেছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর তৃৃণমূলের দুর্নীতি সরিয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছে; বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত হার বা তা কবে নাগাদ রূপায়িত হবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত সুপারিশ আসতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগবে।
(Feed Source: zeenews.com)
