Bangladesh Sheikh Hasina: ‘আমাকে যেতেই হবে..মৃত্যু এলে নিজের মাটিতে আসুক,’ ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, এবার ঘোষণা

Bangladesh Sheikh Hasina: ‘আমাকে যেতেই হবে..মৃত্যু এলে নিজের মাটিতে আসুক,’ ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, এবার ঘোষণা

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামি লিগের নেতাদের নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। একাধিক মেয়াদ মিলিয়ে তিনি প্রায় ২০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তবে নির্বাসন থেকেই তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

‘মৃত্যু এলে নিজের মাটিতেই আসুক’ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেন, “ফিরে গেলে আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হতে পারে।”

তিনি বলেন, “তবুও আমাকে ফিরতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। মৃত্যু যদি আসে, তবে আমি চাই তা আমার নিজের মাটিতেই আসুক—যেখানে আমার বাবা-মা সমাধিস্থ এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছিল।”

‘রায় দেওয়ার অধিকার জনগণের’সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর সরকারের পতনের পর আওয়ামি লিগের বহু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শারীরিক হামলারও শিকার হতে হয়েছে। শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি এখনও বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার কিংবা ন্যায়বিচারের প্রশ্ন কোনও গোপন আলোচনার বিষয় নয়।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় তিনি উদ্বিগ্ন নন, কারণ এর আগেও তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

তিনি জানান, আন্দোলনকারীরা তাঁর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে আসছিল এবং তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়। হাসিনা বলেন, “কোনও সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু একটি সরকারের ভাল-মন্দ, ঠিক-ভুল বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, আওয়ামি লিগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। তাঁর কথায়, “আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, হয়তো আমি নির্বাচনে লড়তেও পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, তাহলে তার বিচার জনগণই করুক।”

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন চাপের আশঙ্কা২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

একই সঙ্গে এই ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে।

তবে শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি।

তিনি বলেন, “ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরত নেওয়ার জন্য বারবার ভারতকে চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই ফিরে যাব।”

এদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের আবেদন তারা খতিয়ে দেখছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায়।

গণতন্ত্রের আন্দোলন থেকে নির্বাসনের পথে

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন নির্বাসনে ছিলেন।

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে তিনি সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনের সময় তাঁকে একাধিকবার গ্রেফতারও করা হয়।

২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি কারাবন্দি হন। পরে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় ফেরেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করে বলে অনেকের মত। তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী মত দমন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলে। শেখ হাসিনা বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে চালানো অভিযানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন।

দিল্লিতে নিজের বাসভবন থেকে রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তাই আমি বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন তোমরাও সবাই এসো। আমরা সবাই একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।”

(Feed Source: news18.com)