)
Stock Market massive crash: মার্কিন ১০ বছরের বন্ডের ইল্ড বেড়ে ৪.৫৮৫% এবং ৩০ বছরের বন্ডের ইল্ড ৫.০৮২% হয়েছে। সাধারণত বন্ডের রিটার্ন বাড়লে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে বন্ডে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন, যার ফলে বাজার থেকে মূলধন বেরিয়ে যায়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ব বাজারের নেতিবাচক সংকেত এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড় ধস। সপ্তাহের শুরুতেই দালাল স্ট্রিটে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা দেওয়ায় বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স (Sensex) প্রায় ৭০০ পয়েন্টের বেশি পড়েছে এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি (Nifty) ২৪,০০০ পয়েন্টের স্তর স্পর্শ করেছে।
১) ইরান-আমেরিকা সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আচমকা অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। আমেরিকার হামলার জবাবে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত। ইরান কাতার ও আমিরাশাহীতে (UAE) এবার যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলা বিশ্ব বাজারে সব জিনিসেরই দাম বাড়িয়েছে। ব্যাবসা বাণিজ্য বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।
২) অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি: ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা বিশ্ব বাজারের তেল ও গ্যাসের দৈনিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও আমেরিকা এই দাবি অস্বীকার করেছে, তা সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধাক্কায় অনেক বেড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড ফিউচার্স ৭৪ ডলারের উপরে পৌঁছেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ আমদানি করে, তাই তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।
৩) ভারতীয় টাকার রেকর্ড পতন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হওয়ায় এবং তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্যে বড় পতন। সোমবার বাজার খোলার মুহূর্তেই টাকা ০.৪% কমে ৯৫.৭০-এর ঘরে নেমে আসে, যা আগের দিন ছিল ৯৫.৩২।
টাকার এই পতন আমদানির খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এর ফলে দেশে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
৪) মার্কিন বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড (Yield) বা সুদের হার এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে, যা শেয়ার বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মার্কিন ১০ বছরের বন্ডের ইল্ড বেড়ে ৪.৫৮৫% এবং ৩০ বছরের বন্ডের ইল্ড ৫.০৮২% হয়েছে। সাধারণত বন্ডের রিটার্ন বাড়লে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে বন্ডে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন, যার ফলে বাজার থেকে মূলধন বেরিয়ে যায়।
৫) বিশ্ব বাজারের দুর্বল সংকেত: ভারতীয় শেয়ার বাজারের পতনের পেছনে বৈশ্বিক বাজারের মন্দাভাবও দায়ী। এশিয়ার অন্যান্য দেশের বাজারগুলোতে আজ ব্যাপক ধস নেমেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি (Kospi) সূচক ৭ শতাংশের বেশি ক্র্যাশ করেছে এবং জাপানের নিক্কেই (Nikkei) সূচক প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ডাও জোন্স ফিউচার্সও বড় পতনের সংকেত দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।
বিনিয়োগকারীদের করণীয়:
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ব বাজারের এই অস্থিরতা এবং মুদ্রার পতনের কারণে বাজারে আরও কিছু দিন ওঠানামা চলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীদের তাড়াহুড়ো করে কোনও বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে লগ্নির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।
(Feed Source: zeenews.com)
