)
Nand Kishore Goenka Death: দেশের প্রখ্যাত শিল্পপতি তথা এসেল গ্রুপের (Essel Group) চেয়ারম্যান ড. সুভাষ চন্দ্রের পিতা, প্রবীণ সমাজসেবী এবং জাতীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের একনিষ্ঠ স্বয়ংসেবক নন্দকিশোর গোয়েঙ্কা আর নেই।
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘আমার ইচ্ছে তাঁর ৯৬ বছরের দীর্ঘ জীবনকে উদযাপন করার’। বাবার মৃত্যুর পর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট দিলেন দেশের প্রখ্যাত শিল্পপতি তথা এসেল গ্রুপের (Essel Group) চেয়ারম্যান ড. সুভাষ চন্দ্র।
ড. সুভাষ চন্দ্র লিখেছেন, ‘আজ সকালে আমাদের প্রিয় বাবা নন্দকিশোর গোয়েঙ্কা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। পরিবারের সকলেই শোকাহত হলেও, আমার ইচ্ছে তাঁর ৯৬ বছরের দীর্ঘ জীবনকে উদযাপন করার, যা সমাজসেবা, গো-সেবা এবং আরএসএস স্বয়ংসেবক হিসেবে দেশসেবায় পরিপূর্ণ ছিল’।
দেশের প্রখ্যাত শিল্পপতি তথা এসেল গ্রুপের (Essel Group) চেয়ারম্যান ড. সুভাষ চন্দ্রের পিতা, প্রবীণ সমাজসেবী এবং জাতীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের একনিষ্ঠ স্বয়ংসেবক নন্দকিশোর গোয়েঙ্কা আর নেই। সোমবার দুপুর ১২:৩০ মিনিটে মুম্বইয়ে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে এসেল পরিবার, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, বৈশ্য সমাজ এবং অগ্রোহা ধামের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নন্দকিশোর গোয়েঙ্কার পার্থিব শরীর বর্তমানে মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের ‘এ রোড, বসন্ত সাগর’-এ তাঁর বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং শুভানুধ্যায়ীরা এসে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
পৈতৃক ভিটে হিসারে ফিরছে মরদেহ
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই সকাল ৭টায় তাঁর পার্থিব শরীর একটি চার্টার্ড বিমানে করে হরিয়ানার তাঁর পৈতৃক শহর হিসারে নিয়ে যাওয়া হবে। হিসারে পৌঁছানোর পর সর্বসাধারণের শেষ দর্শনের জন্য তাঁর দেহ ‘গোয়েঙ্কা হাউস, ১৬৬, কৃষ্ণা মান্ডি’-তে রাখা হবে। আগামী ১৫ জুলাই, বুধবার সকাল ১১টায় হিসারে প্রয়াত এই বিশিষ্ট সমাজসেবীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। অগ্রোহা ধামে অবস্থিত ‘গোয়েঙ্কা উদ্যান’-এ তাঁর মরদেহ পঞ্চতত্ত্বে বিলীন হবে। উল্লেখ্য, এই একই স্থানে তাঁর সহধর্মিণীরও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছিল।
অনাবিল সরলতা ও সমাজসেবার জীবনাবসান
১৯৩০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হরিয়ানার হিসারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নন্দকিশোর গোয়েঙ্কা। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি পরিবারের অভিভাবক হওয়া সত্ত্বেও, তিনি নিজেকে ব্যবসায়িক ব্যস্ততা থেকে দূরে রেখেছিলেন। তাঁর পুরো জীবন কেটেছে চরম সাদামাটাভাবে, সেবা, সংস্কার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে। নিজেকে সবসময় দেশ গঠন ও ধর্মীয় কাজের মধ্যে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন। সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, দেশহিত এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সংরক্ষণে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অগ্রোহা ধামের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষার প্রসার
মহারাজা অগ্রসেনের ঐতিহাসিক রাজধানী অগ্রোহা ধামের প্রতিষ্ঠা এবং তার সার্বিক উন্নয়নে নন্দকিশোর গোয়েঙ্কার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন অগ্রোহা ধামের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনার ফলেই আজ অগ্রোহা ধাম জাতীয় স্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও এক বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।
হিসারের সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রের বিকাশেও তিনি চিরকাল নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ‘শ্রী দেবী ভবন মন্দির গৌশালা ট্রাস্ট’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং ‘শ্রী বৈষ্ণব অগ্রসেন গৌশালা’-র সভাপতি ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি ‘ফতেহচাঁদ মহিলা মহাবিদ্যালয়’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন এবং ‘জিএনজি গোয়েঙ্কা স্কুল’-এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসার এবং গুণগত মানোন্নয়নের জন্য তিনি নিরলস কাজ করে গেছেন।
এর পাশাপাশি ‘গো-সেবা’ ছিল তাঁর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে তিনি গো-সংরক্ষণ ও গো-সেবামূলক কাজকে আজীবন উৎসাহিত করে গেছেন। বৈশ্য সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার পেছনেও তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয়।
ব্যক্তিজীবনে তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তাঁর অমায়িক ভদ্রতা, বিনয় এবং সহজ-সরল আচরণ। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সঙ্গে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে মিশতেন। তাঁর প্রয়াণে কেবল এ্যাসেল পরিবারই অভিভাবকহীন হলো না, বরং দেশের সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও আদর্শগত জগৎ এক অপূরণীয় ক্ষতি প্রত্যক্ষ করল। সমাজকল্যাণে নিবেদিত তাঁর এই দীর্ঘ জীবন আগামী প্রজন্মের কাছে সর্বদা অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
(Feed Source: zeenews.com)
