)
দিদিয়ের দেশঁ কি ইস্তফা দিয়েই দিলেন! শেষ হয়ে গেল ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ১৪ বছরের কেরিয়ার? রেখে গেলেন নীল উত্তরাধিকার। এবার দায়িত্বে জিনেদিন জিদান….
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বের সেরা ৫ ফাইটার জেটের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে ফ্রান্সের মাল্টিরোল টুইন ইঞ্জিন রাফাল। বিশেষজ্ঞরা যে যুদ্ধবিমানকে বলেন ‘একসেপশনল’! বলে বলে শত্রুপক্ষের ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দিয়ে, আকাশপথে বুক ফুলিয়ে আস্ফালন করে রাফাল। আর এরকম ভয়ংকর জেটেরও ইঞ্জিন ধ্বংস করে তাকে মাটিতে নামিয়ে আনতে পারে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, বা অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট আর্টিলারি!
স্পেন-ফ্রান্সের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচের সঙ্গে রাফালের প্রসঙ্গে মিলে যাচ্ছে তো? দিদিয়ের দেশঁ মহাযুদ্ধে কিলিয়ান এমবাপে, উসমানে দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলার মতো সব রাফালেই সজ্জিত ছিল রণসজ্জা! আর ওদিকে দে লা ফুয়েন্তের স্প্যানিশ আর্মাডা, মার্ক কুকুরেয়া, এমেরিক লাপোর্তে, পাউ কুবার্সি এবং পেড্রো পোরোদের নামিয়েই বিশ্বের ভয়ংকরতম অ্যাটাকিং লাইনআপকে মাটি ধরিয়ে দিল! স্পেনের পক্ষে ফল ২-০। ২২ মিনিটে মিকেল ওয়ারথাবালের পেনাল্টিতে গোল ও দ্বিতীয়ার্ধে পেড্রোর গোলেই লে ব্ল্যুজের স্বপ্ন ভেঙে দিল লা রোজা!
ফ্রান্সের বিদায়ের সঙ্গেই দেশঁর কোচ হিসেবে ১৪ বছরের অধ্যায় শেষ হল! যদিও ‘এন্ড অফ অ্যান এরা’ এখনই বলা যাবে না। কারণ এমবাপেরা নিয়মরক্ষার ব্রোঞ্জ ফাইনাল বা থার্ড প্লেস প্লে অফের ম্যাচে খেলায় নামবেন। আর সেদিনই শেষবার তাঁকে ডাগআউটে দেখা যাবে। গতবছর জানুয়ারি মাসেই দেশঁ বলেই দিয়েছিলেন যে, বিশ্বকাপ শেষ হলেই তিনি এমবাপেদের সংসার ছেড়ে চলে যাবেন। তবে যাওয়ার আগে দেশঁ যা রেখে গেলেন, তা বিশ্বের তাবড় কোচকেও বারবার ভাবাবে। আসুন একবার দেখে নিন দেশঁ সভ্যতায় কী কী থেকে গেল।
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দেশঁর পরিসংখ্যান:
মোট ম্যাচ: ১৮৪
জয়: ১২
ড্র: ৩৫
হার: ২৯
জয়ের হার: ৬৫.২%
উল্লেখযোগ্য সম্মাননা ও কৃতিত্ব
উয়েফা ইউরো রানার-আপ: ২০১৬
ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন: ২০১৮
উয়েফা নেশনস লিগ চ্যাম্পিয়ন: ২০২১
ফিফা বিশ্বকাপ রানার্স: ২০২২
ফিফা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্ট: ২০২৬
ঐতিহাসিক মাইলস্টোনের তালিকা
বিশ্বকাপ সর্বাধিক ম্যাচ পরিচালনা: ২০২৬ সালের সেমিফাইনালে নিজের ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি হেলমুট শোন-কে ছাড়িয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকালীন রেকর্ড গড়লেন।
সর্বাধিক বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়: ফুটবল ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব।
এক্সক্লুসিভ ‘ডাবল’ ক্লাবের সদস্য: মারিও জাগালো এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ারের পাশাপাশি দেশঁ সেই তৃতীয় ব্যক্তি যাঁরা খেলোয়াড় (১৯৯৮) এবং কোচ (২০১৮), উভয় ভূমিকাতেই ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন।
দীর্ঘতম সময় ধরে কোচের দায়িত্ব: ফ্রান্সের জাতীয় দলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে (২০১২–২০২৬) কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ডও দেশঁর দখলেই।
দেশঁ যা বলেছিলেন, দেশঁ যা বললেন
স্পেনের বিরুদ্ধে নামার আগে দেশঁ বলেছিলেন, ‘আমি নিশ্চিত ভাবে আপনাদের বলতে পারি যে, স্পেনই এই ম্যাচে ফেভারিট। আমি লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও তাঁর দলের ওপর একদমই কোনও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। কারণ তিনি খুব ভালো ভাবেই জানেন যে স্পেনের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তারা আক্রমণ ও রক্ষণ, দুই বিভাগেই অত্যন্ত দক্ষ। সাত ম্যাচে তারা মাত্র এক গোল হজম করেছে। দুর্দান্ত অ্য়াটাকিং কোয়ালিটির দু’টো টিমের লড়াই হবে। ফলে ম্যাচ অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে। যদিও উভয় দলই ভালো রক্ষণভাগের উপর জোর দেয়, তবুও তাদের আক্রমণশৈলী বিবেচনায় জমজমাট ম্যাচের প্রত্যাশা করাই যায়।’ খেলার পর বললেন, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় এখন নয়। ব্যক্তিগত ভাবে কোনও টুর্নামেন্ট থেকে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে বিদায় নেওয়াটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই পর্যায়ে পৌঁছেছি এবং বিশ্বকাপও জিতেছি। ফ্রান্স টিমকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা যা কিছু করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। খেলোয়াড় হিসেবে আমি ভাগ্যবান। আমি অনেক আনন্দের মুহূর্ত উপভোগ করেছি। আজকের দিনটি অবশ্য তেমন কোনও মুহূর্ত নয়। তবে আমাদের অভিজ্ঞতার কথা ভুলে না গিয়েই এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে।’
ফ্রান্সের পরের কোচ জিনেদিন জিদান
দেশঁর পর ফ্রান্সের দায়িত্ব নেবেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। যিনি সর্বকালের সেরাদেরই একজন। রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন কোচ এবং ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে ইতোমধ্যেই মৌখিক সমঝোতা হয়ে গিয়েছে বলেই খবর। চুক্তির চূড়ান্ত বিবরণ এখনও চূড়ান্ত নয় যদিও। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ফিলিপ দিয়ালো ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো-তে বলেছিলেন, যে তিনি জানেন যে দেশঁর উত্তরসূরি কে হবেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে জিদানের নাম বলতে রাজি হননি। গতবছর এক ইভেন্টে জিদান বলেছিলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে আমি আবারও কোচিংয়ে ফিরব। এখনই যে এমনটা ঘটবে তা আমি বলছি না, তবে কোনও একদিন জাতীয় দলের কোচ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার রয়েছে।’
কোচ হিসেবে জিদানের কেরিয়ার
২০০৬ সালে ফুটবলার হিসেবে অবসর নেওয়ার ঠিক চার বছর পর জিদান কোচিংয়ের ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজার হোসে মরিনহোর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ছ’বছর পর তিনি রাফায়েল বেনিতেজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মূল দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৯ থেকে ২০২১। এই দুই মেয়াদে তিনি রিয়ালের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে’লস ব্লাঙ্কোস’তিন বছরে পাঁচটি ইউরোপীয় শিরোপা জিতেছিল। ছিল উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের হ্যাটট্রিক। জিদান সিনিয়র দল হিসেবে মাদ্রিদেই একমাক্র কোচিং করিয়েছেন। এই ক্লাবে থাকাকালীন তিনি মোট ১১টি বড় খেতাব জিতেছিলেন এবং ২০২১ সালের ২৭ মে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। ফিফা বিশ্বকাপের জন্য আমেরিকার জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার প্রস্তাব তাঁকে দেওয়া হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এবার দেখার এমবাপেদের মাথায় কবে বসেন তিনি।
(Feed Source: zeenews.com)
