জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাসপোর্ট কি ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ? এই নিয়ে দেশজুড়ে চলা জোর বিতর্কের মাঝেই বড়সড় বার্তা দিল কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় পাসপোর্ট মূলত দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার একটি আইনি মাধ্যম এবং এটি প্রধানত একটি ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি। সেই সঙ্গে সরকার পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে ভারতের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৮ শতাংশেরও কম মানুষের কাছে পাসপোর্ট রয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর আগে গত ২৪ জুন ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’-এর একটি অনুষ্ঠানে বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা মন্তব্য করেছিলেন যে, পাসপোর্ট কোনও নাগরিকত্বের শংসাপত্র নয়, এটি কেবলই একটি ভ্রমণের নথি। সরকারের এই মন্তব্যের পরেই বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে কংগ্রেস, তীব্র সমালোচনা শুরু করে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল— সরকার নিজের বিরোধীদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য আগাম ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।
বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা
এই বিতর্কের জল গড়াতেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিকদের বিদেশ যাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেই ভারত সরকার এই পাসপোর্ট ইস্যু করে। তিনি আরও জানান, পাসপোর্ট দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং যথাযথ ভেরিফিকেশনের পরেই তা দেওয়া হয়। তবে এটিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ দেশের একটি অত্যন্ত ছোট অংশের কাছে এই নথি রয়েছে। দেশের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষের কাছে কোনও পাসপোর্টই নেই।
(Feed Source: zeenews.com)