)
২০২৭ সালে ওডিআই বিশ্বকাপ। তার পরের বছরই টি-২০ বিশ্বকাপ। জোড়া শোপিস ইভেন্টকে মাথায় রেখেই আমূল বদল আনল আইসিসি। সংশোধিত কাঠামোর লক্ষ্যই হল টুর্নামেন্টগুলিকে শুরু থেকেই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলা এবং প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়ানো
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আইসিসি এডিনবরায় বার্ষিক সম্মেলন করেছে। সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই! এবার চেনা ফরম্যাটই বদলে দিচ্ছে আইসিসি। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া যৌথ ভাবে ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের আয়োজন করবে। মোট ১৪ দল এবার অংশ নেবে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ১০টি দল ছিল। তবে নকআউট পর্বের আগে বিশ্বকাপে এখন এক নতুন তিন-ধাপের ফরম্যাট আনছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ১২ থেকে ১৪ নম্বর থাকা দলগুলি তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সুপার সিরিজের মাধ্যমেই! এই রাউন্ডের জয়ী দল পরবর্তী ধাপে অন্য দলগুলির সঙ্গে যোগ দেবে। সেখানে ১২টি দলকে ছ’টি করে দুই গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিন দল এবং উভয় গ্রুপের মধ্যে পরবর্তী সেরা অবস্থানে থাকা দল নতুন প্রবর্তিত সুপার সেভেন ধাপে উন্নীত হবে। এর আগে ‘সুপার সিক্স রাউন্ডের পরিকল্পনা করা হলেও আইসিসি তার পরিবর্তে বৃহত্তর সুপার সেভেন ফরম্যাট নিয়েছে।
সুপার সেভেনের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। সেখান থেকে দুই জয়ী দল ফাইনালে উঠবে। এই পরিবর্তিত বিন্যাস এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দলগুলি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে এবং প্রতি ম্যাচের ফলাফল যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়াও নিশ্চিত করেছে আইসিসি। মোট ১০টি দল সরাসরি এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবে। সহ-আয়োজক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ায় স্বয়ংক্রিয় ভাবেই যোগ্যতা অর্জন করবে। তবে আয়োজক দেশগুলির একটি হওয়া সত্ত্বেও নামিবিয়া স্বয়ংক্রিয় যোগ্যতা পাবে না, কারণ তারা আইসিসির সহযোগী সদস্য। সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের বাকি স্থানগুলি আবার ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দলকে দেবে আইসিসি। টুর্নামেন্টের শেষ চারটি স্থানের জন্য লড়াই করতে হবে সারা বিশ্বজুড়ে বাছাইপর্বের মাধ্যমে।
আইসিসি ২০২৮ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বড় পরিবর্তন আসছে। এই টুর্নামেন্ট যৌথ ভাবে আয়োজন করবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড। টুর্নামেন্টের শুরুতে চারটি করে দল নিয়ে পাঁচটি গ্রুপ হবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দু’টি দল নতুন ভাবে সম্প্রসারিত সুপার টেনে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। যা আগের টুর্নামেন্টগুলির সুপার এইট বিন্যাসকে তুলে দেবে। সুপার টেনে পাঁচটি করে দলের দু’টি গ্রুপ হবে। অতীতের বিন্যাসে প্রতিটি সুপার এইট গ্রুপের শীর্ষ দু’টি দল সেমিফাইনালে উঠতJ কিন্তু এখন শুধুমাত্র গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরাই সরাসরি শেষ চারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। সুপার টেনের প্রতিটি গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া দলগুলি বিপরীত গ্রুপের তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের মুখোমুখি হবে এলিমিনেটর ম্যাচে। এই ম্যাচগুলির জয়ীরা সেমিফাইনালের লাইন-আপে থাকবে। আইসিসি -র মতে এই নয়া বিন্যাস আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করবে টুর্নামেন্ট। শেষ পর্যন্ত দলগুলিকে যোগ্যতা অর্জনের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখবে।
আইসিসি মনে করছে দ্বিতীয় ধাপের দল সংখ্যা ৮ থেকে বাড়িয়ে ১০ করার সিদ্ধান্ত ভারতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উদীয়মান দেশগুলির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দ্বারাই প্রভাবিত। আইসিসি ২০২৮ সালের টুর্নামেন্টের যোগ্যতা অর্জনের নীলনকশাও তৈরি করে ফেলেছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় স্বল্প নোটিসে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সুবাদে স্কটল্যান্ডকে ইউরোপীয় আঞ্চলিক ফাইনালে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে যেসব দলগুলি স্বয়ংক্রিয় ভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তারা এবার সরাসরি গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার বা বৈশ্বিক বাছাইপর্বে অংশ নেবে। আঞ্চলিক টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আরও আটটি দল যোগ্যতা অর্জন করছে। এর মধ্যে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ থেকে দু’টি করে এবং আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে একটি করে দল সুযোগ পাচ্ছে। গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে প্রতিটি অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় দল এবং সামগ্রিক ভাবে পরবর্তী সেরা তিনটি দল ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
আইসিসি জানিয়েছে যে, ডেভেলপমেন্ট কমিটি ও চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই তাদের বোর্ড টুর্নামেন্টের এই নতুন কাঠামোর অনুমোদন করেছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে চলা বোর্ডের বৈঠকে ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স কমিটির পর্যালোচনার পর এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
