)
বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সোহেল। তাঁর এইরকম অবস্থায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। কী হবে, হাসপাতালের খরচ কে দেবে? বর্তমানে তাদের পাশে দাঁড়াতে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজ খুলে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মলের সামনে আচমকা যুবককে প্রশ্ন: নাম কী? কোথায় বাড়ি? ধর্ম কী? প্রশ্নের উত্তরে নিজের পরিচয় দিতেই হাড়হিম হামলা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর দিকে ধেয়ে এল এলোপাথাড়ি কোপ। এক-দু’বার নয়, ১৫ বার ছুরি দিয়ে কোপানো হয় তাঁকে। বর্তমানে আহত যুবক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাতে।
গত সোমবার ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ‘ভ্যালি ফেয়ার মল’এর সামনে ঘটনাটি ঘটে। ৪৮ বছরের পিটার মাইকেল লারসেন নামের এক ব্যক্তি বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সোহেল নামের ওই ব্যক্তির ওপর এই নৃশংস হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত সোহেল মলের একটি ছোট দোকানে কাজ করছিলেন। ঘটনার দিন লারসেন তাঁর কাছে গিয়ে প্রথমে নাম জিজ্ঞেস করে। এরপর জানতে চায় সে কোথা থেকে এসেছে এবং তার ধর্ম কী।
সোহেল নিজেকে ভারতীয় এবং মুসলিম পরিচয় দেওয়ার পর, লারসেন তার কাছে এক জলের বোতল চায়। সোহেল যখন বোতল নেওয়ার জন্য পেছন ঘোরেন, ঠিক তখনই লারসেন ছুরি বের করে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সোহেলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ১৫ বার ছুরি দিয়ে কুপিয়ে দেয়।
সাহসিকতার পরিচয় দেয় দেন সাধারণ মানুষ
হামলার সময় পাশে থাকা একটি জুয়েলারি দোকানের কর্মী লুনা নুনেস সোহেলকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তিনি হামলাকারীকে লক্ষ্য করে জুতো, চেয়ার-সহ হাতের কাছে যা পান তা-ই ছুঁড়ে মারেন। এরপর মলে থাকা সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসেন। তারা পুলিস আসার আগেই হামলাকারী লারসেনকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে আটকে রাখেন। গণপিটুনিতে লারসেন নিজেও কিছুটা আহত হয়। পরে পুলিস এসে তাকে গ্রেফতার করে।
হামলাকারীর ভয়ংকর স্বীকারোক্তি
পুলিস জানিয়েছে, ধৃত পিটার মাইকেল লারসেন একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, লারসেন স্বীকার করেছে যে সে কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই সোহেলকে টার্গেট করেছিল। সে সাফ জানিয়েছে, ‘তার লক্ষ্য মুসলিমদের হত্যা করা।’ পুলিস আদালতকে জানিয়েছে, লারসেন জেলের বাইরে থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কারণ সে পরিকল্পিতভাবে আরও বড় কোনো ঘটনা ঘটাতে পারে। তাকে বর্তমানে সল্টলেক কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে।
চরম সংকটে ভিকটিমের পরিবার
আহত যুবকের সহকর্মী ও বন্ধুরা জানিয়েছেন, সোহেলের কোনো স্বাস্থ্য বিমা বা হেলথ ইন্সুরেন্স নেই। তিনি তাঁর পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। তাঁর বাড়িতে স্ত্রী এবং দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তাদের পাশে দাঁড়াতে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজ খুলে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। সোহেলের ম্যানেজার আদনান মোহাম্মদ বলেন, ‘সেখানে যদি আমি থাকতাম, তবে নিজের জীবন দিয়ে হলেও তাকে বাঁচাতাম। তবে যারা বুক চিতিয়ে এগিয়ে এসে তাকে বাঁচিয়েছেন, তারা প্রকৃত হিরো।’
ভারতীয় দূতাবাসের তৎপরতা
এই ঘটনার পর সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। এক্স হ্যান্ডেলে তারা জানিয়েছে, দূতাবাস আহতের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আক্রান্ত ভারতীয় নাগরিককে সব ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তের ওপর কড়া নজর রাখছে।
কে এই লারসেন?
লারসেন এক কুখ্যাত অপরাধী। এবং তার অপরাধের রেকর্ড বেশ পুরনো। ২০২২ সালেও সে নিজের উঠোনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল এবং দমকল কর্মীদের গুলি করার হুমকি দিয়েছিল। সেই সময় সে শটগান নিয়ে পুলিসকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। ওই ঘটনায় তার জেল হয়েছিল এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই সে জেল থেকে ছাড়া পায়।
(Feed Source: zeenews.com)
