)
Pawan Kumar Chandana: স্কুলের ব্যাকবেঞ্চারের মহাকাশ বিজয়। পবন কুমার চন্দনা বলছেন, স্বপ্ন মহাকাশে ‘উবার’ চালু করা! মহাকাশে ঘুরতে যাওয়া খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মহাকাশ গবেষণার দুনিয়ায় এক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন হায়দরাবাদের মহাকাশ গবেষণা স্টার্ট-আপ ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পবন কুমার চন্দনা। শ্রীহরিকোটা থেকে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’-এর সফল উৎক্ষেপণের পর তাঁকে এখন বলা হচ্ছে ভারতের ‘ইলন মাস্ক’! পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভরত ডাকা- দুজনেই ছিলেন ইসরোর বিজ্ঞানী। কিন্তু সরকারি চাকরির নিশ্চিত জীবন ছেড়ে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন এক অনিশ্চিত জীবনে। মহাকাশের সবার নাগালের মধ্যে আনতেই ২০১৮ সালে দুজন মিলে গড়ে তোলেন স্টার্ট-আপ ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’। তারপর বাকিটা ইতিহাস। যে ইতিহাস লেখা হল আজ। বিক্রম-১ এর সফল উৎক্ষেপণের পর পবন কুমার চন্দনা বলছেন, তাঁদের স্বপ্ন মহাকাশে ‘উবার’ চালু করা! মানে উবার ক্যাবের মতোই মানুষ রকেট ভাড়া করে যাবেন মহাকাশে ঘুরতে! মহাকাশে ঘুরতে যাওয়া তখন জলভাত- খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
তবে এই সফল রকেট বিজ্ঞানীর অতীত জীবন আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই ছিল। ১৯৯১ সালে হায়দরাবাদে জন্ম নেওয়া পবন কুমারের জন্য স্কুলের দিনগুলো খুব একটা সহজ ছিল না। বিশেষ করে যে অঙ্কের উপর ভিত্তি করে রকেট বিজ্ঞান দাঁড়িয়ে থাকে, সেই গণিতেই স্কুলের পরীক্ষায় একবার মাত্র ৫১ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। তবে ছেলের এই ফলে তার বাবা ভেঙে পড়েননি। বরং তাঁকে আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য কোচিংয়ে ভর্তি করে দেন। সেই কঠিন লড়াইয়েই সংখ্যার প্রতি পবনের ভয়টা ভালোবাসায় বদলে যায়। প্রথম চান্সেই আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৭ সালে তিনি আইআইটি খড়গপুরে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন।
খড়গপুর আইআইটির প্রাক্তনী, ইসরোয় যোগ
আইআইটি খড়গপুর থেকে সফলভাবে বিটেক ও এমটেকের ডুয়াল ডিগ্রি শেষ করার পর, ২০১২ সালেই পবন যোগ দেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোতে। সেখানে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে প্রায় ছয় বছর তিনি ভারতের অন্যতম ভারী রকেট GSLV Mk-III এবং স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেলের প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল ভারতে একটি বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে সফল করার তাড়নাতেই ২০১৮ সালে তিনি ইসরোর নিশ্চিত সরকারি চাকরি ছেড়ে কোনও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছাড়াই মহাকাশ গবেষণায় স্টার্ট-আপ গড়ার ঝুঁকি নেন।

মহাকাশ গবেষণায় স্টার্ট-আপ
লিংকডইনে মায়ন্ট্রার প্রতিষ্ঠাতা মুকেশ বনসলকে মেসেজ পাঠিয়ে ১.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক ফান্ড জোগাড় করেন। গড়ে তোলেন ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’। দীর্ঘ লড়াই ও অতিমারীর বাধা পেরিয়ে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যেই তাঁর কোম্পানির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার। প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বর্তমানে ভারতের প্রথম ‘স্পেস ইউনিকর্ন’ সংস্থায় পরিণত হয়েছে। ‘মিশন আগমন’-এর মাধ্যমে সফলভাবে বিক্রম-১ রকেট মহাকাশে পাঠিয়ে পবন কুমার চন্দনা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে স্কুলের ব্যাকবেঞ্চারও একদিন মহাকাশ জয় করতে পারে।
দুই বন্ধুর স্বপ্ন সফল
আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী পবন কুমার চন্দনা স্কাইরুটের সিইও হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে, আইআইটি মাদ্রাজের প্রাক্তনী নাগা ভরত ডাকা সংস্থার সিওও হিসেবে রকেটের অ্যাভিওনিক্স, গাইডেন্স এবং কন্ট্রোল সিস্টেমের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ইসরোতে কাজ করার সময় তাঁরা একই ঘরে থাকতেন। গভীর রাতে দুই বন্ধু স্বপ্ন দেখতেন একসঙ্গে একটা বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা গড়ার। দুই বন্ধুর সেই স্বপ্ন আজ সফল। তাঁদের সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারত বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিকভাবে উল্লেখযোগ্য স্বাক্ষর রাখতে প্রস্তুত।
(Feed Source: zeenews.com)
