
WB Tourism: সানি লিয়োনি নাকি মন্দারমণিতে! এই খবরে শোরগোল। এক বার পছন্দের নায়িকার দর্শন কি পেতে পারেন অনুরাগীরা? এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে যখন আলোচনা চলছে, তখন নায়িকার একের পর এক পোস্ট সমাজমাধ্যমে। কিন্তু মন্দারমণির খরচ দেদার। বাজেট কম হলে কমন্দারমণির পাশেই রয়েছে আরও ৫ সমুদ্র সৈকত। মন্দারমণির থেকে কোনও অংশে কম নয়। অথচ খরচা অনেক কম। জেনে নিন হদিশ–
সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শোরগোল মন্দারমণিতে নাকি সানি লিওনি! এমনিতেই মন্দারমণিতে অনেক খরচা। তবে এই মন্দারমনির পাশেই রয়েছে আরও পাঁচটি সমুদ্র সৈকত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে মন্দারমণির থেকে কোনও অংশে কম নয়! উলটে বলে বলে গোল দেবে। অথচ খরচ মন্দারমণির থেকে প্রায় অর্ধেক। কোন কোন সৈকত জানেন? কীভাবে যাবেন? থাকা-খাওয়ার খরচ কত?
সমুদ্র সৈকত বগুড়ান জলপাই– বগুড়ান জলপাই কলকাতার খুব কাছেই সপ্তাহান্তের ছুটি কাটানোর সুন্দর এক নিরিবিলি জায়গা। গ্রাম্য মেঠো পথ, সুবিস্তৃত সমুদ্র সৈকত, লাল কাঁকড়া, ঝাউবনের জঙ্গল। সবথেকে ভাললাগে- এখানকার নির্জনতা। এই সমুদ্র সৈকতে এলে আপনার মনে হবে এটা পৃথিবীর অপর কোনও এক প্রান্তে অবস্থিত, যেখানে কোলাহল নেই, নেই দৈনন্দিনের দৌড়ঝাঁপ। আছে একটা মাত্রই রিসর্ট ‘সাগর নিরালায়’। রিসর্ট থেকে পায়ে হেঁটে মিনিট তিন-চারেক লাগে এই ভার্জিন সি-বিচে পৌঁছাতে। সি-বিচে পৌঁছালেই আপনাকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে আছে সারিসারি লাল কাঁকড়া।
কীভাবে যাবেন বাগুরান জলপাই, কোথায় থাকবেন– কলকাতা থেকে গাড়ি করে সোজা পৌঁছে যাওয়া যায় এই সমুদ্র সৈকতে। পাশাপাশি কলকাতা থেকে কাঁথি পর্যন্ত বাস বা ট্রেনে আসতে পারেন। কাঁথি থেকে গাড়ি ভাড়া করে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এই সমুদ্র সৈকত। সমুদ্র সৈকতে পা রাখলেই সামনে ফুটে উঠবে এক জীবন্ত প্রাকৃতিক ক্যানভাস। বাগুরান জলপাইয়ে থাকার রিসর্ট হল ‘সাগর নিরালায়’। একদিনের ভাড়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
শঙ্করপুর– শঙ্করপুরে সমুদ্রের গর্জন দিঘা বা মন্দারমণি থেকে অনেকটাই বেশি। এখানকার নির্জনতায় আপনি সমুদ্রের সঙ্গে একাত্ম হতে পারবেন। এই সমুদ্র সৈকতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরিসীম। সৈকতের চারপাশে ক্যাসুয়ারিনা জঙ্গলে সমুদ্রের বাতাস মিশে এক অদ্ভুত শব্দ তৈরি করে। একবার সেই শব্দ কানে প্রবেশ করলে নিজেকে আটকে রাখা যায় না, এই জঙ্গলে হারিয়ে যেতে বাধ্য করে। শঙ্করপুর পূর্ব ভারতের অন্যতম সমুদ্র মৎস্য বন্দর। মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকোর আনাগোনা দেখে দিন কেটে যায়।
কীভাবে যাবেন শঙ্করপুর, কোথায় থাকবেন–শঙ্করপুর দিঘা থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে। ট্রেনে করে গেলে আপনাকে দিঘা রেলস্টেশনে নামতে হবে। কলকাতা থেকে বাসে করে গেলে আপনাকে রামনগর বা চৌদ্দ মাইল বাস-স্টপেজে নামতে হবে। আবার ওখান থেকে টোটো বা গাড়ি করে পৌঁছতে হবে শঙ্করপুর। এছাড়া সরাসরি কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় শঙ্করপুর। শঙ্করপুরে কোথায় থাকবেন– এখানে থাকার অনেকগুলি ভাল হোটেল রয়েছে। রাজ্য মৎস্য দফতরের অধীনস্থ সংস্থা বেনফিসের টুরিস্ট লজ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ‘নেস্ট’ রিসর্ট-সহ একাধিক উন্নত মানের হোটেল। প্রত্যেকটিতেই থাকা ও খাওয়ার খরচ সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালির নাগালের মধ্যে।
তাজপুর– পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা সমুদ্র সৈকত হল তাজপুর। তাজপুর সমুদ্র সৈকতে মানুষের ভিড় থাকে না খুব বেশি। যাঁরা ভিড় এড়িয়ে সমুদ্র সৈকত উপভোগ করতে চান, তাঁদের আসতেই হবে এখানে…প্রশস্ত বালিয়াড়ি আর ঢেউয়ের আনাগোনা। জোয়ারে সমুদ্র কাছে চলে আসা আবার ভাটার টানে সমুদ্রের ফিরে যাওয়া। দিগন্ত জুড়ে সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়া! সমুদ্র প্রেমী মানুষের কাছে এ যেন এক আলাদা আবেগ, নস্টালজিয়া ।
নিজের ভাবনার গভীরে হারিয়ে যেতে চাইলে তাজপুর সমুদ্র সৈকত আপনাকে প্রশ্রয় দেবে। জোৎস্নার আলোয় তাজপুর সমুদ্র হয়ে ওঠে রূপবতী। হোটেলের ব্যালকনিতে বসে সেই রূপ দেখার অমোঘ আকর্ষণ পর্যটক ফেরাতে পারে না। আবার অন্ধকার রাতে সমুদ্রের ধারে হোটেলের ব্যালকনিতে বসে সমুদ্রের ডাক ও ঝাউবনের শোঁ শোঁ আওয়াজ পর্যটকদের হাতছানি দেয়। তাজপুরে সমুদ্র তো- আছেই, ঘিরে দেখতে পারেন লাইট হাউস, বঙ্কিমচন্দ্রের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কপালকুণ্ডলা মন্দির।
তাজপুরে কীভাবে যাবেন, কোথায় ধাকবেন– দিঘা গামী বাসে করে বালিসাই নেমে সেখান থেকে টোটো, ভ্যান এবং গাড়ি পাওয়া পাওয়া যায় তাজপুর সমুদ্র সৈকত যাওয়ার জন্য। অন্যদিকে দিঘা-হাওড়া রেল পথের দিঘাগামী এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেনে রামনগর স্টেশনে নেমে টোটো, ভ্যান রিক্সা, অটো বা ছোট গাড়ি করে তাজপুরে যাওয়া যায়। এছাড়াও গাড়ি করে সরাসরি তাজপুর সমুদ্র সৈকতে আসা যায়। এখানে একাধিক হোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, প্রতিদিনের রুম ভাড়া ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। খাওয়া-দাওয়ার জন্য আলাদা টাকা দিতে হয়। পর্যটকেরা চাইলে হোটেলের বাইরে খেতে পারেন।
এই তিনটি সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি দিঘার কাছে রয়েছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশার উদয়পুর ও বিচিত্রপুর সমুদ্র সৈকত। দিঘা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে উদয়পুর সমুদ্র সৈকত। এটি ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় অবস্থিত। এই সমুদ্র সৈকত অনেকটাই শান্ত। মূলত দিঘা থেকে যাঁরা সাইট সিন করতে ভালবাসেন, তাঁরা এই সৈকতে আসেন। এই সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ হল অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস। আরেকটি দেখার মত জিনিস হল সমুদ্র সৈকতের উপর নানা ধরনের দোকান। জোয়ারের জলে পা ডুবিয়ে চলে কেনাকাটা। পাশাপাশি ওড়িশার আরও একটি জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত বিচিত্রপুর। দিঘা থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে সুবর্ণ নদীর মোহনায় এই সমুদ্র সৈকত। এই সমুদ্র সৈকতের মূল আকর্ষণ হল ম্যানগ্রোভ অরণ্য। এছাড়াও লাল কাঁকড়া দেখা যায় এই সমুদ্র সৈকতে। শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের আনাগনায় এই সমুদ্র সৈকত আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিচিত্রপুর সমুদ্র সৈকতে থাকার জন্য ওড়িশা সরকারের বিচিত্রপুর নেচার ক্যাম্প রয়েছে। চাইলে পর্যটকেরা দিঘা থেকেও এই সমুদ্র সৈকতে ঘুরে আসতে পারেন।
(Feed Source: news18.com)
