)
Delimitation Bill and Number Game in Parliament: রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস? তা কি জরুরি? হ্যাঁ, এনডিএ-র তাই মত। আর এহেন ডিলিমিটেশন বিলকে সামনে রেখেই সংসদে নিজেদের আরও পোক্ত জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে তারা। সংসদের দুই কক্ষে সংখ্যার অঙ্ক আরও পোক্ত করতে তৎপর বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই লক্ষ্যেই বিরোধী শিবিরের অসন্তুষ্ট সাংসদদের সরাসরি বিজেপিতে না এনে জোটের শরিক দলগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করার এই কৌশল।
রাজীব চক্রবর্তী: ডিলিমিটেশন বিলকে সামনে রেখে সংসদে সংখ্যার অঙ্ক আরও পোক্ত করতে তৎপর বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই লক্ষ্যেই বিরোধী শিবিরের অসন্তুষ্ট সাংসদদের সরাসরি বিজেপিতে না এনে জোটের শরিক দলগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এতে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও এনডিএ-র সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মহারাষ্ট্রে, পশ্চিমবঙ্গে
মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ছেড়ে ৬ সাংসদ একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দেওয়া কিংবা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদের এনসিপিআই-তে যোগদান ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
ম্যাজিক ৩১৮
৫৪৩ আসনের লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৩৬০টি আসন। তৃণমূল ও শিবসেনার ভাঙন সেই সংখ্যা একলাফে ৩১৮-তে পৌঁছে দিয়েছে এনডিএ-কে। সেই সঙ্গে আরও দুর্বল হয়েছে বিরোধী শিবির। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই কৌশলে লোকসভা ও রাজ্যসভাতে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে এনডিএ। বিরোধীদের অভিযোগ, ডিলিমিটেশন বিল-সহ বিশেষ কয়েকটি সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত করতেই এই সংখ্যার অঙ্ক কষছে এনডিএ। তবে বিজেপির দাবি, সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সে যাই হোক, অদূর ভবিষ্যতে সংসদে ডিলিমিটেশন বিল পেশ হলে তা নিয়ে সারা দেশে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কী ভাবছে দক্ষিণ?
নারীশক্তি অধিনিয়মের আড়ালে নরেন্দ্র মোদী সরকার সংসদে ফের ডিলিমিটেশন বিল আনলে সর্বশক্তি দিয়েই তা রোখা হবে বলে জানিয়ে দিল ডিএমকে। সোমবার থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তার আগে সংসদ বিষয়ক দফতর থেকে অধিবেশনে পেশ করার জন্যে যেসব বিলের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে নারীশক্তি অধিনিয়ম বা ডিলিমিটেশন বিল নেই। তবে বিরোধীরা এতে পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছে না। অগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে অধিবেশন। যে কোনও সময়ে স্বল্প সময়ের নোটিসে ফের ওই দুই বিল পেশের চেষ্টা করতে পারে মোদী সরকার– বিরোধী–পরিসরে এই জল্পনাই প্রবল। আর সেটা মাথায় রেখেই নিজের দলের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ডিলিমিটেশন বিল পাসের চেষ্টা রুখতেই হবে। তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী টিভিকে–র সি জোশেফ বিজয়ও জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর স্বার্থক্ষুণ্ণকারী এই বিল তাঁরা মানবেন না।
রাজ্য-রাজনীতি
প্রসঙ্গত, গত ১৭ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত এই দুই বিল সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছিল মোদী সরকার। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার তৈরি হওয়ার পরে সংসদে কোনও বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে সেই প্রথম ব্যর্থ হল সরকার। তবে গত তিন মাসে অনেক পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে ভারতীয় রাজ্য-রাজনীতিতে। তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোটে ডিএমকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে স্ট্যালিনের হাত ছেড়ে বিজয়ের হাত ধরেছে কংগ্রেস। সঙ্গে সঙ্গে ডিএমকে ‘ইন্ডিয়া’ ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এদিকে, বঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পরাজয় ঘটেছে। ইন্ডিয়া শিবিরে থাকা তৃণমূলের লোকসভার ২০ জন এমপি এনসিপিআইয়ে সামিল। এই ২০ জন এখন প্রকারান্তরে বিজেপি তথা এনডিএ-রই সঙ্গী। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ৬ জন লোকসভা সাংসদও বিজেপিপন্থী শিন্ডেসেনায় চলে গিয়েছেন। ফলে, লোকসভায় এনডিএ-র সংখ্যা বেড়েছে। এবার কী হবে?
(Feed Source: zeenews.com)
