বহুদিনের বীরভূমের সাংসদ তিনি৷ তৃণমূলেক হয়ে জিতেছেন ৪টি লোকসভা নির্বাচন৷ তবে আপাতত তিনি বিদ্রোহী৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙেছে৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন৷
বহুদিনের বীরভূমের সাংসদ তিনি৷ তৃণমূলেক হয়ে জিতেছেন ৪টি লোকসভা নির্বাচন৷ তবে আপাতত তিনি বিদ্রোহী৷
কলকাতা: বাংলার নির্বাচনে হারের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় মিশেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। মমতা এবং অভিষেকের হাত ছেড়ে এনডিএ -কে সমর্থন করছে এই দল৷ সকলেই অভিষেকের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন৷ সেই দলে রয়েছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ও৷
প্রসঙ্গত এই নিয়ে মুখ খুলে আবারও খবরের শিরোনামে এসেছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়৷ তিনি বলেন, অনেকটাই দেরি করে ফেললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এখন না বলে যদি ভোটের ফল প্রকাশের পরই তিনি ইস্তফা দিতেন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এমন দিন আসত না বলেও দাবি করলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়৷
একটি পডকাস্টে শতাব্দী অকপট দল নিয়ে বহু কথা বলেছেন৷ তিনি জানিয়েছেন যে শেষ দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি৷ এমনকী দল ছাড়ার পরও কোনও টেক্সট মেসেজে কথা হয়নি শতাব্দী-মমতার ৷ শেষদিন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থাৎ দলনেত্রীর সঙ্গে দেখাও করে আসেননি৷ কারণ সেই সময় তাঁর মনে অনেক অভিমান-অভিযোগ জমেছিল৷ শতাব্দী জানান যে, তিনি দিদির সঙ্গে এখন কোনও কথা বলবেন না, কারণ তিনি সন্দিহান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া কী হবে৷ তবে ভবিষ্যতে দেখা হলে কী হবে, কী কথা হবে তাঁদের মধ্যে, তা সময়ই বলবে বলে মত বীরভূমের সাংসদের৷
অভিনেত্রীর পাশাপাশি শতাব্দী রায় একজন পরিচালক৷ লেখালেখির সঙ্গে তিনি যুক্ত৷ তাঁর কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে৷ পডকাস্টের সঞ্চালকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান যে কোনও একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্রাজ্যের পতন নিয়ে তিনি স্ক্রিপ্ট লিখবেন৷ শতাব্দীর কথায়, “ততদিনে আরও বয়স হবে, realize করব সত্যিই কার ভুল ছিল, ঠিক ছিল, তবে এই মুহূর্তে দলের ভুলেই দেখতে পাচ্ছি৷ না হলে পাশের লোকগুলো কেন চলে যাবে?” ববি হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসের প্রসঙ্গ তুলে এই প্রশ্নই ছুঁড়ে দেন দীর্ঘদিনের সাংসদ৷
বিদ্রোহীদের দলে তিনি রয়েছেন, রয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ এবং খুবই সোচ্চার হয়েছেন দু’জনেই৷ ফলে অনেকে বলছেন যে শিল্পীরা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন৷ দলে শিল্পীদের না আনা ভাল ছিল, এমন মত উঠে আসছে৷ এই প্রসঙ্গে শতাব্দী রায় বলেন যে, “শুধু আর্টিস্টদের আনা কেন ভুল হবে, কেন শুধু তাঁদের বেইমানি নিয়ে কথা হচ্ছে, যাঁরা পুরোপুরি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁরাও তো এখন বিদ্রোহী, মমতা-অভিষেকের সঙ্গে আর নেই৷” শতাব্দী আরও বলেন যে “মমতা-অভিষেকের দল ছাড়ার ক্ষেত্রে ৫ জন artist হলে, ৫০ জন politician”৷
তৃণমূল দলে যোগ দেওয়া শিল্পীদের নিয়ে মুখ খোলেন শতাব্দী৷ উঠে আসে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, মুনমুন সেনের কথা৷ রচনাকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন যে মাত্র ২ বছর হয়েছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ হিসেবে৷ নায়িকার কথায়, রচনা তাঁর নিজের কাজ নিয়ে খুব series , ফলে তিনি নিজের এলাকায় গিয়ে কাজ করবেন, এমনই ধারনা অভিজ্ঞ রাজনীতিকের৷ এছাড়া সন্ধ্যা রায়কে যখন দলে আনা হয়, তখনই শতাব্দী বলেছিলেন যে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দলের হয়ে ভাল কাজ করতে পারবেন, যদিও মুনমুন সেন প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন যে সুচিত্রা কন্যা ঠিকভাবে রাজনীতি করতে পারবেন না বলে ধারনা ছিল তাঁর, কারণ মুনমুন সেই মানসিকাতারই নন৷
(Feed Source: news18.com)