Success Story: টিফিন পৌঁছে দেওয়া থেকে ওই অফিসেই ডেপুটি কালেক্টর, সরকারি চাকরিতে নজির গড়লেন ‘সংগ্রামী’ মীনাক্ষী

Success Story: টিফিন পৌঁছে দেওয়া থেকে ওই অফিসেই ডেপুটি কালেক্টর, সরকারি চাকরিতে নজির গড়লেন ‘সংগ্রামী’ মীনাক্ষী

Success Story: সংগ্রাম থেকে সাফল্য, ইউকেপিএসসি পিসিএস পরীক্ষায় পঞ্চম হয়ে ডেপুটি কালেক্টর মীনাক্ষী। তাঁর কাহিনি সিনেমাকে হার মানায়, জানুন…

নজির গড়লেন ‘সংগ্রামী’ মীনাক্ষী

কলকাতা: উত্তরাখণ্ড লোক সেবা কমিশনের (ইউকেপিএসসি) পিসিএস ২০২৪ পরীক্ষায় সাধারণ বিভাগে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন ঋষিকেশের মীনাক্ষী ভাটিয়া। এই সাফল্যের সুবাদে তিনি ডেপুটি কালেক্টর পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের গল্প। এক সাক্ষাৎকারে মীনাক্ষী জানান, যে তহসিল অফিসে একসময় তিনি টিফিন পৌঁছে দিতেন, আজ সেই তহসিলেই ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

বাবার মৃত্যুর পর শুরু হয় সংগ্রাম

মীনাক্ষীর কথায়, ২০০৩ সালে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। এরপর পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাঁর মা। পরিবারের খরচ চালাতে মা টিফিন সার্ভিস শুরু করেন। সেই কাজে দুই মেয়েই মায়ের পাশে দাঁড়ান। মীনাক্ষী বাড়ি-বাড়ি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে টিফিন পৌঁছে দিতেন।

তহসিল অফিসেই জন্ম নেয় স্বপ্ন
টিফিন দিতে গিয়ে নিয়মিত সরকারি অফিসে যাতায়াত করতেন মীনাক্ষী। সেখানেই প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাজ দেখে একদিন নিজেও প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলস পরিশ্রম শুরু করেন। আজ যে তহসিল চত্বরে তিনি একসময় টিফিন পৌঁছে দিতেন, সেখানেই ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা
কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা থামাননি মীনাক্ষী। তিনি জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকতেন। নিজের সমস্ত মনোযোগ পড়াশোনার দিকেই রেখেছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই মেধাবী
মীনাক্ষী শুরু থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে তিনি ঋষিকেশের সিটি টপার হয়েছিলেন। এবার ইউকেপিএসসি পিসিএস পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান অর্জন করে তিনি আবারও নিজের মেধার পরিচয় দিলেন। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনও লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। বিশেষ করে তাঁর এই সাফল্য বহু তরুণ-তরুণী এবং মেয়েদের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।