)
Covid Precautions: আবার সে এসেছে ফিরিয়া! ফের শুরু করোনার প্রকোপ। দেশের পাশাপাশি কলকাতাতেও বাড়ছে কোভিডের দাপট! এবারের করোনার ধরন কেমন? কীভাবে কোমর বাঁধবেন এবারের করোনার সঙ্গে? এ নিয়ে ছড়িয়েছে প্রশ্ন ও উদ্বেগ। প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসকেরা?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কলকাতায় বাড়ছে কোভিডের দাপট! এবারের করোনার ধরন কেমন? কীভাবে কোমর বাঁধবেন এবারের করোনার সঙ্গে? এ নিয়ে ছড়িয়েছে প্রশ্ন ও উদ্বেগ। প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসকেরা?
এ সময়ে কলকাতায় সিজনাল ভাইরাল ইনফেকশন তো চলছেই। এগুলির সংক্রমণ হার ঊর্ধ্বমুখী। এর পাশাপাশি কলকাতায় কোভিড-১৯-এর সংক্রমণও ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পরে ১০ বছরের এক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল এবং সে চিকিৎসকদের সতর্ক নজরে রয়েছে। এছাড়া আরও তিনজনের শরীরে কোভিড ধরা পড়ায় তাঁদেরও শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চারজন রোগীর মধ্যেই জ্বর, গলা ব্যথা এবং ঘন ঘন কাশির মতো করোনার সাধারণ উপসর্গ দেখা গিয়েছে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডেনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিডের পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডেনোভাইরাস এবং রাইনোভাইরাসের উপদ্রবও বেড়েছে। যার ফলে কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা ও গায়ে-হাতে ব্যথার মতো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে। ডাক্তারেরা অবশ্য আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ বেশ মৃদু বা সাধারণ মানের। তবে বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তর্বর্তীকালীন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং দীর্ঘদিনের ক্রনিক রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
সংক্রমণ বাড়ছে
সংক্রমণ বাড়ছে, তবে বেশিরভাগই মৃদু। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, কলকাতায় কোভিড ও শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য ভাইরাসের প্রকোপ সত্যিই বেড়েছে। টেস্ট বেশি হওয়ার কারণে যেমন কেস ধরা পড়ছে, তেমনই আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসের ছড়ানোর প্রবণতাও এর পিছনে দায়ী।
লক্ষণ
রোগীদের মধ্যে সাধারণত যে লক্ষণগুলি দেখা যাচ্ছে:
জ্বর, গলা ব্যথা বা গলা খুসখুস করা, কাশি, নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ থাকা, হাঁচি, মাথা ব্যথা, শরীরে তীব্র ব্যথা এবং ক্লান্তি ভাব! ফলে , এই লক্ষণগুলির উপর নজর রাখা জরুরি।
তবে, যাঁদের আগে থেকেই অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। উপসর্গ বাড়তে থাকলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে যাঁদের অ্যাজমা, সিওপিডি (COPD), ফুসফুসের জটিলতা, লিভারের সমস্যা বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যাধি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি কিছুটা বেশি।
কোন ভ্যারিয়েন্টের কারণে এই কোভিড-বৃদ্ধি?
হালের এই কোভিড-বৃদ্ধির পিছনে মূলত অমিক্রনেরই বিভিন্ন সাব-ভ্যারিয়েন্ট (sub-variants) রয়েছে। ইন্ডিয়ান সার্স-কোভ-২ জিনোমিক্স কনসোর্টিয়াম (INSACOG) প্রতিনিয়ত এই নতুন স্ট্রেনগুলির ওপর নজর রাখছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভ্যারিয়েন্টগুলি আগের অমিক্রন স্ট্রেনের চেয়ে বেশি মারাত্মক নয় এবং এগুলি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এমন প্রমাণও নেই। বেশিরভাগ মানুষই সাধারণ চিকিৎসাতেই সেরে উঠছেন। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা অমিক্রন ঢেউয়ের মতোই। বেশিরভাগ রোগী বাড়িতে থেকে সাধারণ পরিচর্যা ও ওষুধেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। খুব কম সংখ্যক রোগীরই হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ছে।
কাদের বেশি সতর্ক থাকা উচিত?
চিকিৎসকেরা নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। যেমন, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা, অ্যাজমা, সিওপিডি বা ফুসফুসের ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা মানুষ, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। কেননা, এই ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামান্য ভাইরাল সংক্রমণও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটাতে পারে।
যেসব ভুল করা যাবে না
অনেকেই লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা করেন বা নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার চেষ্টা করেন– এটা একদমই করা উচিত নয়। বিশেষ করে যাঁরা বয়স্ক বা অন্য রোগে ভুগছেন, তাঁদের জ্বর, কাশি বা গলা ব্যথাকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। সঠিক সময়ে পরীক্ষা করালে রোগটি কোভিড, ইনফ্লুয়েঞ্জা নাকি অন্য কোনো ফ্লু– তা স্পষ্ট হবে।
কোভিড টেস্ট জরুরি?
সবার কি কোভিড টেস্ট করানো জরুরি? সাধারণ সর্দি-কাশির মৃদু উপসর্গ থাকলে সবার ক্ষেত্রে কোভিড টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক নয়। তরুণ ও সুস্থ ব্যক্তিরা বিশ্রাম নিয়ে, প্রচুর জল খেয়ে এবং প্রাথমিক পরিচর্যা মারফতই সুস্থ হয়ে যেতে পারেন।
তবে বয়স্ক ও ক্রনিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো টেস্ট করিয়ে নেওয়া ভালো। উপসর্গ দেখে সবসময় কোভিড ও ইনফ্লুয়েঞ্জার পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়, তাই প্রয়োজনে হাসপাতালে মাল্টিপ্লেক্স পিসিআর (Multiplex PCR) টেস্টের মাধ্যমে আসল ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।
প্রতিষেধক ও সাধারণ সতর্কতা
রোগের তীব্রতা কমাতে টিকাকরণ এখনও অত্যন্ত কার্যকর। তবে এ সময়ে জনবহুল জায়গায় মাস্ক পরা, হাত পরিষ্কার রাখা, ভিড় এড়ানো এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটা জরুরি।
(Disclaimer: প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কোনও সুপারিশ করা হচ্ছে না।)
(Feed Source: zeenews.com)
