)
CJP Protest in Delhi: কাঁদানে গ্যাসের তীব্রতা এবং পুলিসের তৎপরতায় সমাবেশস্থলে দৌড়াদৌড়ি ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এর ফলেই এক আশঙ্কাজনক ও পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ২১-২২ বছর বয়সী ওই তরুণী তাঁর বোনের সাথে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছিলেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জাতীয় রাজধানীতে সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা পরীক্ষা ও নিট (NEET) কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আয়োজিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ‘সংসদ চলো’ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিল দিল্লির যন্তর মন্তর। পুলিসের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ এবং তা থেকে পদপৃষ্ঠ হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অন্তত ৯০ জন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারাত্মকভাবে আহত এক তরুণীকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তিনি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুর দিনে শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিশাল পুলিশ ও আধাসেনা বাহিনী আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ এবং দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে।
কাঁদানে গ্যাসের তীব্রতা এবং পুলিসের তৎপরতায় সমাবেশস্থলে দৌড়াদৌড়ি ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এর ফলেই এক আশঙ্কাজনক ও পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ২১-২২ বছর বয়সী ওই তরুণী তাঁর বোনের সাথে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছিলেন। দৌড়াদৌড়ির সময় তিনি গার্ডরেলের সাথে সজোরে ধাক্কা খান এবং মাটিতে পড়ে যান। তাঁর ঘাড় ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং বর্তমানে তিনি আইসিইউ-তে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সোম ও মঙ্গলবার মিলিয়ে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী ও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগকে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও আশঙ্কাজনক রোগীদের আরএমএল (RML) ও লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর ওপর কনটেন্ট বানিয়ে পরিচিত ইউটিউবার ‘পীইং হিউম্যান’ (রমিত বর্মা)-ও এই ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি আরএমএল হাসপাতালে ছোটেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং আপ (AAP) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তারা আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশের ‘অনভিপ্রেত ও বর্বর’ বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা করেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে যান।
আন্দোলনকারীদের অবস্থান
আন্দোলনের অন্যতম রূপকার পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক এবং সিজেপি (CJP) প্রধান অভিজিৎ দীপকে পুলিশের এই আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সোনাম ওয়াংচুক বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের নির্মম আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।” পুলিশি তাণ্ডব সত্ত্বেও নিজেদের মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে অনশন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
(Feed Source: zeenews.com)
