)
FIFA World Cup 2026: প্রথমবার ৪৮টি দলের অংশগ্রহণ। নতুন বিন্যাসে অনুষ্ঠিত ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ কেবল মাঠের লড়াইয়েই নয়, পরিসংখ্যানের দিক থেকেও পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে সদ্য সমাপ্ত হওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সফলতম আসর হিসেবে রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে এবং নতুন বিন্যাসে অনুষ্ঠিত ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ কেবল মাঠের লড়াইয়েই নয়, পরিসংখ্যানের দিক থেকেও পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। গোলের বন্যা, স্টেডিয়ামে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়, কার্ডের ছড়াছড়ি-সহ একাধিক নতুন রেকর্ডের সাক্ষী থাকল এই টুর্নামেন্ট।
রেকর্ড ভাঙা গোলের বন্যা
৪৮টি দলের মোট ১০৪টি ম্যাচের এই মেগা টুর্নামেন্টে গোলের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ডসংখ্যক গোল হয়েছে। ম্যাচ প্রতি গোলের গড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। আক্রমণাত্মক ফুটবলের ফুলঝুরিতে দলগুলো প্রতিপক্ষের জাল কাঁপাতে কোনো কার্পণ্য করেনি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও দেখা গেছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পেনাল্টি বক্সের নিখুঁত ফিনিশিং থেকে শুরু করে দূরপাল্লার দর্শনীয় শট বা ফ্রি-কিক—সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা এক অনবদ্য গোলবন্যা উপভোগ করেছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচে ৩০৮টি গোল হয়েছে, যার গড় ম্যাচ প্রতি ২.৯৬টি।
স্টেডিয়ামে অভূতপূর্ব দর্শকসংখ্যা
আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার আধুনিক ও বিশাল স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার মতো। ১০৪ ম্যাচেই টিকিট পেতে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে হাহাকার দেখা গিয়েছিল। ফিফার হিসেব অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে মোট দর্শক উপস্থিতির সংখ্যা অতীতের সব আসরকে ছাড়িয়ে গেছে, যা গড়ে প্রতি ম্যাচে প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি। বিশেষ করে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম বা আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মতো ভেন্যুগুলোতে গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রেকর্ডসংখ্যক মোট ৬৮,১০,৯৬৬ জন দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন। ১০৪টি ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ প্রতি গড়ে ৬৫,৪৯০ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। স্টেডিয়ামের আসন পূর্ণ থাকার হার ছিল প্রায় শতভাগ (৯৯.৭%)।
ক্লিন শিট ও ডিফেন্সের লড়াই
আক্রমণভাগের পাশাপাশি এবার বিশ্বকাপে রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকদের দক্ষতাও ছিল দেখার মতো। টুর্নামেন্টের সেরা দলগুলোর গোলরক্ষকেরা দুর্দান্ত পারফর্ম করে একাধিক ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ (কোনো গোল না খাওয়া) ধরে রাখেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন সাতটি ম্যাচে সাতটি ‘ক্লিন শিট’ (কোনও গোল না খাওয়া) রেখে টুর্নামেন্টে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল খেয়ে তিনি দেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রাখেন। সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ১০৪ ম্যাচে মোট ৪৬টি ক্লিন শিট বজায় রাখতে পেরেছে। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের গোলরক্ষকদের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ডার্ক হর্স দলের রক্ষণভাগও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়। যা কিনা টুর্নামেন্টের ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ পুরস্কারের লড়াইকে আরও কঠিন করে তোলে।
কার্ডের ছড়াছড়ি
এবার বিশ্বকাপে রেফারিদের অনমনীয় মনোভাবের কারণে টুর্নামেন্টে হলুদ ও লাল কার্ডের ছড়াছড়ি দেখা যায়। বিশেষ করে নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে ট্যাকটিক্যাল ফাউল এবং মাঠের উত্তেজনা সামলাতে রেফারিরা দেদার কার্জ দেখান। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মোট ২৯২টি কার্ড দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে ২৭৭টি হলুদ কার্ড এবং ১৫টি লাল কার্ড। ৪৮টি দলের নতুন বিন্যাসে ১০৪ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ প্রতি হলুদ কার্ডের গড় ছিল বেশ কম—প্রায় ২.৫৪টি। তবে পূর্ববর্তী টুর্নামেন্টগুলোর তুলনায় এবার লাল কার্ডের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি ও লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।
একঝাঁক নতুন রেকর্ড
ইতিহাসে প্রথমবার তিনটি দেশ মিলে সফলভাবে কোনও বিশ্বকাপ আয়োজন করার অনন্য কীর্তি গড়ল। এবারের আসরে একদিকে যেমন বেশ কিছু তরুণ তুর্কি সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন, অন্যদিকে অভিজ্ঞ তারকারাও নিজেদের শেষ বিশ্বকাপে গোল করে প্রবীণতম স্কোরের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। সেনেগালের ফরওয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ে মাত্র ১৮ বছর ১৪৩ দিন বয়সে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে এই আসরের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তরুণ তুর্কিদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বজয়ী স্পেনের উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল। ওদিকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রবীণতম গোলদাতা হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে গোল করে তিনি এই বিশ্বকাপের প্রবীণতম গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
