
আসলে, এক আইনজীবী যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত বিষয়টি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের সামনে উত্থাপন করেন।
সুপ্রিম কোর্টে ওই আইনজীবী প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের কাছে সিজেপি-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন করে বলেন, ‘‘সিজেপি-র বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের বর্বরতার ভিডিওও আমার কাছে রয়েছে। অনুগ্রহ করে দেখুন, এই মামলাটি আগামিকাল, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তালিকাভুক্ত করা যায় কি না। সেখানে এখনও ছাত্রছাত্রীরা অবস্থান করছেন।’’
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শুধু শুনানির আবেদনই খারিজ করেননি, তিনি বলেন, ‘‘না, না… আগামিকাল আমাদের সময় নেই। আমাদের কাছে সময় নেই। আমরা ভিডিও দেখতে চাই না। আমরা সময় নষ্ট করতে চাই না।’’
কোন আইনজীবী আবেদন করেছিলেন, মামলায় কী দাবি ছিল?
এই বিষয়টি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সামনে উত্থাপন করেছিলেন আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র। তিনি মামলাটির জরুরি শুনানির আবেদন জানান।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সিজেপি-র বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্যাতন হয়েছে। এছাড়া নীট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র মিছিলের সময় ছাত্র-প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কথিত পুলিশি পদক্ষেপের তদন্তের দাবি জানানো হয়।
সিজেপি-র বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছিল।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য: ‘সময় নষ্ট করবেন না’:
জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আমাদের এবং আপনাদের—কারও সময়ই নষ্ট করবেন না।”
এরপর আইনজীবী যুক্তি দেন, ছাত্রছাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরছেন, যার মধ্যে নীট পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে সংস্কার অন্যতম তবে ৷ বেঞ্চ মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানায়।
সিজেপি (CJP)-র বিক্ষোভ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর কী ঘটেছিল?
যখন আইনজীবী দাবি করেন যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে, তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “ভিডিওতে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। সেগুলো দেখার মতো সময়ও আমাদের নেই।”
দিল্লি হাইকোর্টও এর আগের দিন সিজেপি-র বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের পদক্ষেপ-সংক্রান্ত একই ধরনের একটি আবেদনের জরুরি শুনানি করতে অস্বীকার করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সেই ঘটনার একদিন পর এল।
সিজেপি-র বিক্ষোভে কী ঘটেছিল?
দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলন এখনও চলছে। সিজেপি-র নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রীরা সোমবার নীট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানান। যখন বিক্ষোভকারীরা সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগোতে শুরু করেন, তখন দিল্লি পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এ সময় কয়েকজন ছাত্র ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এছাড়া, সিজেপি-র বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোরতা ও বলপ্রয়োগ করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
(Feed Source: news18.com)
