)
Meghalaya Honeymoon murder case: ২০২৫ সালের মে মাসে ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী ও তাঁর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী সোনম রঘুবংশী মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় যান। সেখানেই সোহরা অঞ্চলে নিখোঁজ হন তাঁরা। ২ জুন গভীর খাদ থেকে উদ্ধার করা হয় রাজা রঘুবংশীর ক্ষতবিক্ষত দেহ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা মেঘালয়ের বহুল আলোচিত ‘হানিমুন হত্যা মামলা’-য় প্রধান অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশীর জামিন বাতিল সংক্রান্ত শুনানিতে কড়া আইনি বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। মেঘালয় সরকারের করা আপিলের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সোনমকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মূল সাক্ষীদের জেরার স্বার্থে তিনি হয় স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, অথবা শীর্ষ আদালত মামলার গুরুত্বর ভিত্তিতে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন শুনে আদেশ জারি করবে।
২০২৫ সালের মে মাসে ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী ও তাঁর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী সোনম রঘুবংশী মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় যান। সেখানেই সোহরা অঞ্চলে নিখোঁজ হন তাঁরা। ২ জুন গভীর খাদ থেকে উদ্ধার করা হয় রাজা রঘুবংশীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। তদন্তে নেমে মেঘালয় পুলিস জানতে পারে, প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশে রাজাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন সোনম।
ঘটনার পর কিছুদিন পলাতক থাকার পর পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণ করেন সোনম। দীর্ঘ কয়েক মাস বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর চলতি বছরের শুরুতে শিলং ট্রায়াল কোর্ট ও পরবর্তীকালে মেঘালয় হাইকোর্ট সোনমকে জামিন দেয়।
জামিনের বিতর্কিত ভিত্তি
ট্রায়াল কোর্ট এবং হাইকোর্ট সোনমকে জামিন দেওয়ার পেছনে মূল কারণ দেখিয়েছিল আইনি প্রক্রিয়ার একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি।
পুলিসের গ্রেফতারি মেমোতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) খুনের ধারা ১০৩-এর বদলে ভুলবশত টাইপিং ত্রুটির কারণে ৪০৩ লেখা হয়েছিল।
অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন, গ্রেফতারির সঠিক ধারা বা কারণ অভিযুক্তকে সঠিকভাবে জানানো হয়নি। উচ্চ আদালত বিষয়টিকে প্রক্রিয়াগত গাফিলতি ধরে জামিন মঞ্জুর করে।
মেঘালয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টে এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, এটি কোনও বড় আইনি ত্রুটি নয়, শুধু টাইপিং বা ক্ল্যারিক্যাল ভুল। অভিযুক্ত নিজেই আত্মসমর্পণ করেছিলেন, ফলে তিনি খুনের অভিযোগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন। এখনও অবধি, পূর্ববর্তী তিনটি জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার সময় এই যুক্তি তোলা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি. বি. বরালে-র সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানির সময় মন্তব্য করেন:
‘আপনার কাছে দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয় আমরা মামলার মূল গুণের (merits) ভিত্তিতে আবেদন শুনে সিদ্ধান্ত নেব, না হয় আপনাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে যাতে মূল সাক্ষীদের জেরা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে এবং সেই সময়কালে আমরা জামিনের আবেদনের ওপর চূড়ান্ত রায় দেব।’
শীর্ষ আদালত সোনমের আইনজীবীকে পরামর্শ দেয় যে, স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করাই তাঁদের জন্য শ্রেয় হতে পারে। এতে মামলা চলাকালীন সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের ওপর কোনও প্রভাব ফেলার অভিযোগ উঠবে না।
বর্তমান পরিস্থিতি
সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এই প্রস্তাব বা বিকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সোনম রঘুবংশীর আইনজীবী আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন। তিনি জানান, মক্কেলের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে আদালতে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। শীর্ষ আদালতে এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর পুরো দেশের।
(Feed Source: zeenews.com)
