Abhijeet Dipke’s Parents: ‘প্রাণনাশের হুমকি, ফোনটা তুলতেও ভয় পেতাম’, CJP-র আন্দোলন শেষে চোখে জল অভিজিতের বাবা-মায়ের! রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন ছেলে? কী জানালেন তাঁরা?

Abhijeet Dipke’s Parents: ‘প্রাণনাশের হুমকি, ফোনটা তুলতেও ভয় পেতাম’, CJP-র আন্দোলন শেষে চোখে জল অভিজিতের বাবা-মায়ের! রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন ছেলে? কী জানালেন তাঁরা?

 

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মা অনিতা দীপকে নিউজ১৮ মারাঠি-কে জানান, গত এক মাস ধরে তাঁদের পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটিয়েছে। বিশেষ করে অভিজিৎ আমেরিকা থেকে ভারতে ফিরে এসে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, “অভিজিৎ যখন আমেরিকা থেকে ফিরে এল, তখন ও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিল। সেই সময় আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে কয়েকদিনের জন্য আমাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হয়েছিল।”

 

অনিতা জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা যেভাবে অভিজিতের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তাতে তিনি একজন মা হিসেবে গর্বিত। তাঁর কথায়, “গত এক মাসে দেশের কোণায় কোণায় থাকা ছাত্রছাত্রীরা যেভাবে অভিজিতের পাশে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চালিয়েছে, তা আমাকে গর্বিত করেছে। আজ আমার চোখের জল আনন্দের।”

অনিতা আরও বলেন, “আমার ছেলের আন্দোলন সফল হয়েছে, এটা ভেবে খুব ভাল লাগছে। ছাত্রছাত্রীদের পরিশ্রম সফল হয়েছে। গত এক মাস আমরা সবসময় ভয় নিয়ে বেঁচেছি। ঠিকমতো ঘুমোতে পারতাম না। ফোন বাজলেই ভয় লাগত। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও উদ্বেগজনক ভিডিও দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়তাম। বারবার অভিজিতের বন্ধুদের ফোন করে ওর খোঁজ নিতাম। ওরা আমাকে আশ্বস্ত করতো যে অভিজিৎ নিরাপদে আছে।”

তাঁর মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শুধু সিজেপি-র নয়, গোটা দেশের ছাত্রসমাজের জয়। তিনি বলেন, “সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের কাছে মাথা নত করেছে। এটা ছাত্রদের সংগ্রামের প্রকৃত বিজয়। এখন আমি শুধু চাই, অভিজিৎ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি ফিরে আসুক। যদি ও দিল্লি থেকে না ফেরে, তাহলে আমরাই দিল্লি গিয়ে ওকে নিয়ে আসব। ও বাড়ি ফিরলে আমি ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরব এবং স্বাগত জানাব।”

অভিজিতের বাবা ভগবানরাও দীপকও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের রাজনীতির কোনও অভিজ্ঞতা নেই, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।”

অভিজিৎ ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “অভিজিৎ দু’বছর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে কাজ করেছে। কাছ থেকে রাজনীতি দেখেছে। এখনই ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলা তাড়াহুড়ো হবে। তবে একজন বাবা হিসেবে ও যে পথই বেছে নিক, আমি সবসময় ওর পাশে থাকব।”

তবে অনিতা দীপকে মনে করেন, তাঁর ছেলে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন না। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না অভিজিৎ রাজনীতিতে আসবে। বরং সমাজের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। ও কোনও রাজনৈতিক দল গড়বে বলেও আমি মনে করি না। ও বাড়ি ফিরে এলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যাবে।” এদিকে শনিবার অভিজিৎ দীপকে নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আপডেট দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন।

(Feed Source: news18.com)