জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে, কাজের বিপুল চাপ ও ব্যস্ততার কারণে তিনি রাতে মাত্র তিন ঘণ্টার মতো ঘুমানোর সুযোগ পান। তাঁর এই মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে দীর্ঘস্থায়ী ঘুমহীনতার ক্ষতিকর প্রভাব। একটি আধুনিক রাষ্ট্র যেখানে কাজের চাপ কমাতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ ও নমনীয় কাজের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, সেখানে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধানের এমন জীবনযাত্রা এক বিপরীত ছবি তুলে ধরেছে। তরুণ প্রজন্ম যেখানে জীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে আগ্রহী, সেখানে নেতৃত্বের এই সংস্কৃতি তাদের ভাবিয়ে তুলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমালে শরীরে মারাত্মক সব শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমায়। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগের অভাব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, ঘুম কম হলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে। নিয়মিত কম ঘুমালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেকে কর্মক্ষম ভাবলেও দীর্ঘস্থায়ী ঘুমহীনতা একজন মানুষের কর্মদক্ষতা ও বিচারবুদ্ধিকে নিঃশব্দে কমিয়ে দেয়। জাপানে কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে শারীরিক অবক্ষয় ও মৃত্যুর ইতিহাস (যা ‘কারোশি’ নামে পরিচিত) নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নেতাদের নিজেদের সুস্থ জীবনযাত্রার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত, যাতে কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি আরও স্বাস্থ্যকর ও টেকসই হয়ে ওঠে।
(Feed Source: zeenews.com)