)
Dharmendra Pradhan Resignation: যন্তরমন্তরের এভারের বিক্ষোভের একটা লক্ষ্যনীয় বিষয় হল, এই বিক্ষোভ পাটনা, মুম্বই ও কলকাতার মত জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ককরোচ জনতা পার্টির(CJP) বিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ছেঁটে ফেলতে বাধ্য় হল মোদী সরকার। বিজেপি জমানায় এই প্রথম কোনও মন্ত্রী জনরোষের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।
সিজেপি বলছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ তাদের নৈতিক জয়। বিরোধীদের মুখেও সেই এক কথা। দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন, সিএএ-এনআরসি আন্দোলনে সরকারকে এভাবে কোনও মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। দেশে বিদেশে চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিল মোদী সরকার। তার পরেও মোদী সরকারের এই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে কি এনডিএ সরকারের কি অন্য অঙ্ক! এমনটাও মনে করছেন অনেকে। বিজেপির লক্ষ্য কি জেন জি!
বিজেপির সামনে এখন দুটো লক্ষ্য। একটি হল উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবং অন্যটি ২০২৯ এর লোকসভা নির্বাচন। কোনও কোনও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, এই দুই বড় ভোটের কথা মাথায় রেখেই বিজেপি আর দেশের তরুণ প্রজন্মকে চটাতে চায় না। তাই কিছুটা পিছু হঠল সরকার।
উত্তরপ্রদেশে ১৮-৩৯ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রায় ১২.৩৬ লাখ নতুন ভোটার ছিলেন। ফলে সেদিকটা মাথায় রাখতে হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের ৪০৩টি বিধানসভা আসনে আগামী বছরের শুরুতেই ভোট হতে চলেছে। ২০১৭ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৩১২টি আসনে জয়লাভ করেছিল। এখন সেই জেন জিকে চটালে তার ফল উল্টো হতে পারে দুই নির্বাচনেও। পাশাপাশি, নিট প্রশ্ন ফাঁসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু চলে যেতে পারে বিরোধীদের হাতে। তবে যন্তর মন্তরে জেন জি-দের আন্দোলনে দেখা গেল কোনও ডাক ছাড়াই শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় উপরে ভর করেই গোটা দেশ থেকে দিল্লিতে এসেছেন তরুণরা। এসেছেন বহু অভিভাবকও।
যন্তরমন্তরের এভারের বিক্ষোভের একটা লক্ষ্যনীয় বিষয় হল, এই বিক্ষোভ পাটনা, মুম্বই ও কলকাতার মত জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ক্ষোভ আরও বাড়ত বই কমছিল না। ফলে আগেই সিঁদুরে মেঘ দেখেছিল কেন্দ্র সরকার। পাশাপাশি উঠে আসছিল কৃষক আন্দোলন, সিএএ প্রটেস্ট ও কুস্তিগিরদের প্রতিবাদের কথা। ফলে বিষয়টি ক্রমশ জটিল হচ্ছিল। তাই বিক্ষোভে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাদের রাশ টানল কেন্দ্র। সিজেপি বলছে, তারা এবার চায় শিক্ষায় সংস্কার। কিন্তু আপাতত তাদের হাতে কোনও ইস্যু নেই। সরকারও ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে। ফলে সরকার এবার বুক বাজিয়ে বলতে পারবে, সিজেপির সব দাবি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর কিছু পড়ে নেই। আর এইখানেই উত্তর প্রদেশ ভোটের আগে বিরোধীদের সব অস্ত্র ভোঁতা করে দেওয়ার কৌশল সরকারের। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী NEET-UG পরীক্ষা দেন। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি বিপুল সংখ্যক তরুণ শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে সরাসরি নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই আন্দোলন বা প্রতিবাদগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ফুটে উঠেছিল, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নতুন বা প্রথমবারের ভোটার। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ গ্রহণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিজেপি এমন একটি বার্তা দিতে চেয়েছিল যে, তারা তরুণদের সমস্যা ও দুশ্চিন্তাগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে—যাতে আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মাঝে দলের সমর্থনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
বিরোধী দলগুলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটিকে সরকারকে নিশানা করার অস্ত্র হাতে পেয়ে গিয়েছিল। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকার বিরোধীদের হাতে থাকা অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুর ধার কমিয়ে দিল। সরকার এই পদত্যাগকে কোনো রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে না দেখিয়ে, বরং নিজেদের জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
