
Monsoon Fungal Infection:প্রাথমিকভাবে হালকা চুলকানি, ফুসকুড়ি বা জ্বালাপোড়া দিয়ে শুরু হলেও, দ্রুত চিকিৎসা না করালে এই সমস্যাটি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
বর্ষাকাল গরম থেকে স্বস্তি দিলেও, এটি বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যাও নিয়ে আসে। এর মধ্যে একটি হলো ছত্রাক সংক্রমণ। বর্ষার দিনগুলিতে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং ঘাম দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে লেগে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ত্বককে সংক্রমিত করতে পারে। প্রাথমিকভাবে, এটি কেবল হালকা চুলকানি বা লালচে ভাব হিসাবে অনুভূত হতে পারে, কিন্তু সময়মতো এর প্রতিকার না করা হলে এই সমস্যাটি আরও গুরুতর হতে পারে। তাই, বর্ষাকালে ত্বকের যত্ন অবহেলা করা ব্যয়বহুল প্রমাণিত হতে পারে।
ডঃ রাজকুমার (আয়ুশ) ব্যাখ্যা করেছেন যে, ছত্রাক সংক্রমণ সাধারণত শরীরের আর্দ্রতাপূর্ণ স্থানগুলিতে, যেমন পায়ের আঙুলের ফাঁকে, বগলে, কুঁচকিতে, ঘাড়ে, উরুতে এবং ত্বকের ভাঁজে বেশি দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে, এর লক্ষণগুলির মধ্যে চুলকানি, ফুসকুড়ি, জ্বালাপোড়া বা চামড়া ওঠা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মানুষ প্রায়শই এটিকে সাধারণ চুলকানি ভেবে উপেক্ষা করে, কিন্তু এই অসাবধানতা সংক্রমণকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না করালে এটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই ঋতুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনার শরীর পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা। প্রতিদিন স্নান করুন এবং তারপর তোয়ালে দিয়ে শরীর ভালভাবে শুকিয়ে নিন, বিশেষ করে শরীরের যে অংশগুলোতে বেশি ঘাম হয়। ঘামে আপনার জামাকাপড় ভিজে বা স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেলে, সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে ফেলুন। দীর্ঘ সময় ধরে ভেজা জামাকাপড় পরে থাকলে ছত্রাকের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এছাড়াও, তোয়ালে, মোজা এবং রুমালের মতো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগাভাগি করা এড়িয়ে চলুন।
ঘরোয়া প্রতিকারের কথা বলতে গেলে, ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধে নিমকে খুব কার্যকরী বলে মনে করা হয়। আপনি জলে নিমপাতা ফুটিয়ে সেই জলে স্নান করতে পারেন। এর ছত্রাক-রোধী গুণ ত্বককে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, দুই থেকে তিন ফোঁটা টি ট্রি অয়েল নারকেল তেলে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে আলতোভাবে লাগানো যেতে পারে।
তবে, টি ট্রি অয়েল সবসময় একটি ক্যারিয়ার অয়েলে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত, কারণ এটি সরাসরি লাগালে কারওর কারওর ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। বর্ষাকালে পোশাক নির্বাচনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুতির এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরা শ্রেয় বলে মনে করা হয়, কারণ এগুলো দ্রুত ঘাম শোষণ করে এবং ত্বককে শ্বাস নিতে দেয়। তবে, খুব আঁটসাঁট বা সিন্থেটিক পোশাক দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখে, যা ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আপনি যদি জিমে যান বা আপনার খুব ঘাম হয়, তাহলে ব্যায়ামের পরপরই স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরুন।
(Feed Source: zeenews.com)
