
Ideal Diet for Jaundice: জন্ডিসের লক্ষণ কী? এটা কি কোনও রোগ, নাকি রোগের উপসর্গ? আমিষ খেলে কি বেড়ে যায় জন্ডিসের সমস্যা, কী খাবেন, কী কাবেন না জন্ডিসে-জানুন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে।
বর্ষাকালে যে রোগগুলি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, সেগুলির মধ্যে অন্যতম জন্ডিস৷ সাধারণের কাছে এটা অসুখ হলেও চিকিৎসাবিদ্যার পরিভাষায় একে বলা হয় রোগের উপসর্গ৷ লিভারে হেপাটাইটিস, সিরোসিস, ক্যানসারের মতো জটিল রোগ হলে উপসর্গ হিসেবে জন্ডিস হতে পারে৷ বলছেন আইএলএস, দমদম হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং হেপাটোলজিস্ট প্রতীক পোদ্দার৷ (AI Image)
জন্ডিস বললে প্রথমেই মাথায় আসে খাওয়া দাওয়ার কথা৷ এই উপসর্গ থেকে মুক্তি পেতে ডায়েট বড় ভূমিকা পালন করে৷ অনেক ক্ষেত্রেই এটা প্রচলিত যে জন্ডিস ধরা পড়লে আমিষ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ কিন্তু তার পিছনে কোনও বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি নেই বলে মত চিকিৎসক প্রতীকের৷ তিনি বলেন, লিভার সিরোসিসের সঙ্গে হেপাটিক এনসেফ্যালোপ্যাথি থাকলে আমিষ খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ কিন্তু শুধু জন্ডিসের ক্ষেত্রে আমিষ-নিরামিষ নিয়ে বাধ্যবাধকতা বা নিয়ন্ত্রণের বিষয় নেই৷
চিকিৎসক প্রতীকের মতে, জন্ডিসের কোনও স্পেশাল ডায়েট হয় না৷ চিকিৎসকরা আগে খতিয়ে দেখেন কোন সমস্যার উপসর্গ হিসেবে জন্ডিস দেখা দিয়েছে৷ অ্যাকিউট হেপাটাইটিস, সিরোসিস নাকি পিত্তনালীতে পাথর-মূল রোগ নির্ণয় করে তার পরই জন্ডিসের ডায়েট নির্ধারণ করা হয়৷ দেখা হয় যাতে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল যেন সমস্যা অনুযায়ী নির্দেশিকা মেনে দেওয়া হয়৷
দীর্ঘ দিনের প্রচলিত বিশ্বাস হল জন্ডিসে অড়হর ডাল এবং এই গাছের পাতার রস খুবই উপকারী৷ এই টোটকার কি কোনও ভিত্তি আছে? চিকিৎসক প্রতীক বলছেন, তিনি একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট হিসেবে এগুলি প্রেসক্রাইব করবেন না৷ এগুলি খাওয়া উচিত কিনা, সে বিষয়ে হ্যাঁ বা না কোনওটাই বলবেন না৷ তাঁর মতে, যাঁরা আয়ুর্বেদ-কবিরাজি অনুসরণ করেন, তাঁরা এগুলি ব্যক্তিগত মত ও বিশ্বাস অনুযায়ী মেনে চলেন৷ এই প্রসঙ্গে তিনি প্লেসিবো এফেক্টের কথাও বলেন৷ এর অর্থ হল, নির্দিষ্ট ভিত্তি না থাকলেও মানুষ যখন নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কোনও পদ্ধতির প্রয়োগ করে রোগের চিকিৎসায় এবং সুস্থ হলে সেই বিশ্বাস-প্রয়োগের উপর ভরসা আরও বেড়ে যায়৷ জন্ডিস নির্দিষ্ট কোনও রোগ নয়, রোগের উপসর্গ৷ কিন্তু এই উপসর্গেরও কিছু লক্ষণ আছে৷ চোখ-সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হলুদ হয়ে যাওয়া, অরুচি অখিদে হয়ে খিদে কমে যাওয়া, ক্লান্তি, গা বমি ভাব, ওজন কমা, চুলকানি হওয়া ত্বকে-এই চিহ্নগুলি দেখা দিতে পারে জন্ডিস থেকে৷
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতীক বার বার বলছেন যে জন্ডিস হলে আগে উৎসের কারণ খতিয়ে দেখে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করা৷ সাবধানতা হিসেবে পানীয় জল ও খাবার নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে৷ জন্ডিস ছোঁয়াচে না হলেও রক্ত থেকে ছড়ায়৷ তাই জন্ডিস হলে তার থেকে রক্ত গ্রহণ করা যাবে না৷ সেরকমই কোনও কারণে রক্ত নিতে হলে সেটাও জন্ডিসমুক্ত হতে হবে৷ সাবধানতা, সতর্কতা এবং পরীক্ষানিরীক্ষার পর উপযুক্ত সময়ে সঠিক চিকিৎসা ও মূল রোগ নির্ধারণ-জন্ডিস মোকাবিলায় এই বিষয়গুলি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে চিকিৎসক প্রতীক পোদ্দার৷
(Feed Source: news18.com)
