
Great Banyan Tree: কলকাতার কাছেই যেন আরেক শিবপুরের ‘গ্রেট বানিয়ান ট্রি’! ৮৬ শতক জমি জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ৫০০ বছরের প্রাচীন এই বটগাছ একাই গড়ে তুলেছে এক আস্ত জঙ্গল। আসল গুঁড়ি কোথায় হারিয়ে গিয়েছে তা জানা অসম্ভব। অনেকের কাছেই এখন গাছ দর্শনীয় উঠেছে। এই গাছ জড়িয়ে আছে স্থানীয়দের আবেগের সঙ্গে।
হাসনাবাদের রামেশ্বরপুর গ্রামে পা রাখলেই নজর কাড়ে বিশাল এক প্রাচীন বটগাছ। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি গোরা তলার বটগাছ নামেই পরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন নয়, বরং এলাকার ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। (ছবি ও তথ্য – জুলফিকার মোল্যা)
স্থানীয়দের দাবি, বটগাছটির বয়স প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর। অসংখ্য ঝড়, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী থেকেও আজও তার অস্তিত্ব অটুট। বটগাছের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ঝুরি থেকে নতুন শিকড় ও কাণ্ড তৈরি হওয়ায় গাছটির বিস্তার ক্রমাগত বেড়েছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও তার বিশালত্ব আজও বিস্ময় জাগায়।
জানা যায়, এই বটগাছটি বর্তমানে প্রায় ছিয়াশি শতক জমি জুড়ে বিস্তৃত। একসময় এটি ছিল গ্রামের মানুষের মিলনকেন্দ্র। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক আড্ডা কিংবা শীতের দিনে পারিবারিক বনভোজন- সবকিছুরই সাক্ষী এই বটতলা। এখনও দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এই প্রাচীন বৃক্ষ দেখতে রামেশ্বরপুরে আসেন
এই বটগাছের নিচেই রয়েছে এক পীরের মাজার। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, ধর্মপ্রচারক পীর গোরাচাঁদ এই স্থানে সাধনা করেছিলেন। সেই ঘটনার স্মৃতিতেই এলাকাটির নাম হয় গোরাতলা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থানকে ঘিরে ধর্মীয় বিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে এবং আজও বহু মানুষ এখানে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের কথায়, এতটাই বিস্তৃত হয়েছে বটগাছটি যে এর মূল কাণ্ডটি কোথায়, তা আজ আর নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। একের পর এক ঝুরি মাটিতে নেমে নতুন কাণ্ডের জন্ম দিয়েছে। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গাছকে ঘিরে নানা গল্প, কাহিনি ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে, যা আজ স্থানীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, ইতিহাসের স্মৃতি এবং মানুষের বিশ্বাস- সবমিলিয়ে গোরা তলার এই শতাব্দীপ্রাচীন বটগাছ আজও এক জীবন্ত ঐতিহ্য। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা জরুরি। কারণ, এই বটগাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, হাসনাবাদের অতীত, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের এক অমূল্য জীবন্ত দলিল। (ছবি ও তথ্য – জুলফিকার মোল্যা)
(Feed Source: news18.com)
