)
Dr. Manmohan Singh Coal allocation scam case: পরবর্তীকালে ২০১৫ সালে বিশেষ সিবিআই আদালত তৎকালীন রিপোর্ট খারিজ করে দিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, প্রাক্তন কয়লা সচিব পি সি পারখ এবং শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লাকে অভিযুক্ত হিসেবে হাজির হওয়ার জন্য সমন পাঠায়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বহুল চর্চিত ও বিতর্কিত কয়লা ব্লক বণ্টন (Coal Block Allocation Scam) মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর ক্লোজার রিপোর্টে অবশেষে সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, সিবিআইয়ের এই ক্লোজার রিপোর্ট খারিজ করার পিছনে ট্রায়াল কোর্টের যে সিদ্ধান্ত ছিল, তার যুক্তিতে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে এই বেঞ্চের পর্যবেক্ষণের ফলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলতে থাকা আইনি লড়াই ও তদন্ত প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০১২ সালে ভারতের অডিট সংস্থা ‘ক্যাগ’ (CAG)-এর রিপোর্টে কয়লা খনি বণ্টনে বড় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে, যা দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক স্তরে প্রবল তোলপাড় ফেলেছিল।
২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে স্বচ্ছ নিলাম ছাড়া বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে কয়লা ব্লক বরাদ্দ করার অভিযোগ ওঠে।
২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং নিজেই কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। এর ফলে ওড়িশার ‘তালাবীরা-২’ (Talabira-II) কয়লা ব্লক কুমার মঙ্গলম বিড়লার ‘হিন্দালকো’ সংস্থাকে বণ্টনের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীকালে ২০১৫ সালে বিশেষ সিবিআই আদালত তৎকালীন রিপোর্ট খারিজ করে দিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, প্রাক্তন কয়লা সচিব পি সি পারখ এবং শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লাকে অভিযুক্ত হিসেবে হাজির হওয়ার জন্য সমন পাঠায়।
ট্রায়াল কোর্টের ওই সমন জারির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তখন তৎকালীন আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে, প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নীতিগত সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করা এবং ফৌজদারি অপরাধমূলক মানসিকতা (Mens Rea) থাকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালেই ট্রায়াল কোর্টের সেই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ (Stay Order) জারি করেছিল।
ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্ত ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ড. মনমোহন সিংয়ের প্রয়াণের পর, সিবিআই ট্রায়াল কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলার তদন্তের ইতি টানার আবেদন জানিয়ে ক্লোজার রিপোর্ট দাখিল করে। কিন্তু ট্রায়াল কোর্ট কোনও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই সেই রিপোর্ট গ্রহণ করতে সম্মত হয় না এবং তা খারিজও করে দেয়।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ ট্রায়াল কোর্টের এই আদেশে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে যে, সিবিআই-এর দাখিল করা ক্লোজার রিপোর্ট খারিজ করার পেছনে ট্রায়াল কোর্টের নির্দেশে যুক্তিসঙ্গত আইনি প্রমাণের স্পষ্ট অভাব রয়েছে। শীর্ষ আদালত নিশ্চিত করে যে, মনমোহন সিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ফৌজদারি বা ব্যক্তিগত দুর্নীতির প্রমাণ নেই এবং ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সিবিআই-এর ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করা হল।
জাতীয় রাজনীতি ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য
ড. মনমোহন সিং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মজীবনে একজন অত্যন্ত সৎ, নীতিবান এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন সময়ে কয়লা কেলেঙ্কারির মতো অভিযোগে তাঁর নাম জড়ানোয় তাঁর ব্যক্তি ভাবমূর্তিতে আঘাত লেগেছিল।
সর্বোচ্চ আদালতের এই সাম্প্রতিক নির্দেশ কেবল যে বহু বছরের আইনি জটিলতার অবসান ঘটাল তা নয়, বরং শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজন প্রাক্তন প্রধান প্রশাসনিক কর্তার কাজের সততা এবং স্বচ্ছ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি অধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠিত হল।
(Feed Source: zeenews.com)
