রাজনীতির অভিযোগ দূরে সরিয়ে ফের অনুশীলনে সায়নী, খুলল সুইমিং পুলের দরজা

রাজনীতির অভিযোগ দূরে সরিয়ে ফের অনুশীলনে সায়নী, খুলল সুইমিং পুলের দরজা

 

East Bardhaman News:: দীর্ঘদিন পর ফের কালনার সুইমিং পুলে অনুশীলনের সুযোগ পেলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাঁতারু সায়নী দাস। স্থানীয় বিধায়ক তাঁকে দিলেন বড় আশ্বাস।

কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: দীর্ঘদিন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শিকার হওয়ার পর অবশেষে কালনার স্থানীয় সুইমিং পুলে অনুশীলনের সুযোগ পেলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সাঁতারু সায়নী দাস। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের একটি চ্যানেল পার করার প্রস্তুতির সময় মারাত্মকভাবে চোট পান তিনি। বর্তমানে চিকিৎসাধীন সায়নীর শারীরিক পুনরুদ্ধার বা ‘রিকভারি ট্রেনিং’-এর জন্য চিকিৎসকেরা নদীতে না নেমে সুইমিং পুলেই অনুশীলনের পরামর্শ দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় অনুশীলনের সুব্যবস্থা করতে কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদারের কাছে সুইমিং পুল ব্যবহারের আবেদন জানান সায়নী। বিধায়ক তৎক্ষণাৎ তাঁর এই আবেদন মঞ্জুর করেন এবং এই প্রতিভাবান সাঁতারুর পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দেন। এর পাশাপাশি সায়নী যাতে সরকারি চাকরি এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পান, সে ব্যাপারেও উচ্চপর্যায়ে চিঠি লিখে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

খেলোয়াড়দের কঠিন লড়াই ও আর্থিক চাহিদার কথা তুলে ধরে বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “দেখুন, একটা সেই লেভেলে উঠতে গেলে ন্যাশনাল লেভেল বা ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে খেলা নিয়ে উঠতে গেলে একটা খরচ হয়। এখন সবার তো সেই ক্যাপাসিটি থাকে না সেই খরচটা কন্টিনিউ করার। কিন্তু এরকম যারা প্রতিভা, যারা ন্যাশনাল লেভেলে উঠে গেছে বা ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে একবার চলে গেছে, আমার মনে হয় গভর্মেন্ট অ্যাসিস্টেন্স কিছু না কিছু থাকবে। সেটা চাকরির থ্রু দিয়ে হোক বা কোনো স্পন্সরশিপ হোক। বাট ডেফিনেটলি চাইব যে তাকে পুরস্কৃত করা হোক, একটা চাকরি তাকে দেওয়া হোক। সেটা নিয়ে আমি নিজেও বলেছি, কথা বলেছি। আমি একটা লেটারও করে দেবো। ওনারা যেরকম আবেদনটা দিয়েছেন, আমি ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেবো। আমি এক্সপেক্ট করছি যে কিছু না কিছু একখানা আমরা সলিউশন এখান থেকে নিয়ে আসবো।”

বিধায়কের আশ্বাসের পর নিজের দীর্ঘদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন সায়নী দাস। তাঁর অভিযোগ, বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ বহু বছর ধরে কালনার সুইমিং পুলে তাঁর অনুশীলন বন্ধ রাখা হয়েছিল। দেশের হয়ে ইংলিশ চ্যানেল-সহ একের পর এক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মুখ উজ্জ্বল করলেও স্থানীয় স্তরে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।

সুইমিং পুলে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে এতদিন তাঁকে বিভিন্ন পুকুর ও খোলা জলাশয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়েছে। সাঁতারু সায়নী দাস বলেন, “আজকে আমি এসেছিলাম… প্রথমত বিধায়ক স্যারকে আমি রিকোয়েস্ট করেছিলাম, এই মুহূর্তে আমার ট্রিটমেন্ট চলছে। আমার সুইজারল্যান্ডের চ্যানেল পার করতে গিয়ে আমি ভীষণভাবে চোট পেয়েছিলাম। তো ডাক্তার বলেছে রিকভারি করার খুব প্রয়োজন। তো সেইজন্য আমার একটা সুইমিং পুলের ভীষণ দরকার, কারণ এই মুহূর্তে গঙ্গা অসম্ভব। তো সেইজন্য যেদিন বিধায়ক স্যার বাড়িতে গেছিলেন, তিনি যখন শুনলেন যে আমি ২০১০ সাল থেকে এখানে আমার প্র্যাকটিস বন্ধ ছিল, উনি সেদিনই বলেছিলেন যে এখানে এসে প্র্যাকটিস করার কথা। তো আজকে এসেছিলাম, ওনার কাছে পারমিশন নিলাম, তো উনি হ্যাঁ বলেছেন। তো এরপর আমি রিকভারি এখানে শুরু করবো।”

সায়নী ও তাঁর পরিবারের স্পষ্ট দাবি, স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণেই এতদিন একজন জাতীয় স্তরের অ্যাথলেটের অনুশীলনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে খেলাধুলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও জটিলতা নিয়ে নতুন করে জোরালো চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শকে দূরে সরিয়ে রেখে যে কোনো খেলোয়াড়ের যোগ্যতা, আন্তর্জাতিক সাফল্য ও মেধাকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া উচিত—সায়নীর এই লড়াই ও ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনায় সেই বার্তাটিই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

(Feed Source: news18.com)