
মন্ত্রকের দাবি, দেশীয়ভাবে পূর্বনির্ধারিত দামে সংগ্রহ করা ইথানল প্রতি লিটার জ্বালানির ২০ শতাংশ হওয়ায় সেই সময় দিল্লিতে সাধারণ মানুষকে পেট্রোলের জন্য লিটারপিছু ৯৪.৭৭ টাকাই দিতে হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, ই২০ পেট্রোল শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে খুচরো জ্বালানির দামকে রক্ষা করেনি, সংকটের চরম সময়ে গ্রাহকদের লিটারপিছু প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ও করেছে।
এছাড়াও, দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা ভর্তুকিযুক্ত এফসিআই-এর চাল এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে— এমন অভিযোগও খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রায় ৭৫ দিন পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা হলেও সরকার জ্বালানির দাম স্থির রেখেছিল। পরে মে মাসে লিটারপিছু ৭.৫০ টাকা দাম বাড়ানো হয়। বর্তমানে দিল্লিতে ই২০ (৯১ অকটেন) পেট্রোলের দাম লিটারপিছু ১০২.১২ টাকা, আর ১০০ অকটেন পেট্রোলের দাম ১৬৯ টাকা প্রতি লিটার।
ই২০ ব্যবহারে মাইলেজ ২% থেকে ৬% পর্যন্ত কমতে পারে: নিতিন গড়করি
বৃহস্পতিবার সংসদে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানান, ই২০ পেট্রোল ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিনের কোনও ক্ষতি হয় না, তবে কিছু ক্ষেত্রে মাইলেজ কমতে পারে এবং পুরনো বিএস-৩ (BS-III) গাড়ির কিছু রাবারের যন্ত্রাংশ বদলাতে হতে পারে।
লোকসভায় লিখিত উত্তরে গড়করি জানান, অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (ARAI), সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM) এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL)-এর যৌথ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ই২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ সামান্য কমতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, ই২০ পেট্রোল ব্যবহারে গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা ২% থেকে ৬% পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এই হ্রাস কতটা হবে, তা নির্ভর করবে গাড়ির ধরন এবং বয়সের উপর।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারে গাড়ির ত্বরণ (অ্যাক্সিলারেশন) ও রাইড কোয়ালিটি কিছুটা উন্নত হয় এবং কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে।
গড়করি জানান, ২০১৬ সালের আগে তৈরি কিছু বিএস-৩ গাড়ির রাবারের যন্ত্রাংশ ও গ্যাসকেট ই২০ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর জন্য ইঞ্জিনে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন নেই এবং সামগ্রিকভাবে গাড়ির কার্যক্ষমতার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে না।
ই২০ জ্বালানি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত
৮০ শতাংশ পেট্রোল এবং ২০ শতাংশ ইথানল দিয়ে তৈরি ই২০ জ্বালানি চালুর পর থেকেই বিরোধী দল ও বিভিন্ন গ্রাহক সংগঠন এর বিরোধিতা করে আসছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, পুরনো গাড়ির সঙ্গে এই জ্বালানির সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি মাইলেজ কমে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ইঞ্জিন বা ফুয়েল সিস্টেমে ক্ষতি হলে দায়বদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে ই২০ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, যেসব গাড়ি ই২০-সমর্থিত, সেগুলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি এখনও ওয়ারেন্টির সুবিধা বহাল রেখেছে।
(Feed Source: news18.com)
