
Tapeworms in Fish: বর্ষায় ভবাবহ আকার ধারণ করে ফিতাকৃমি সংক্রমণ। তবে শুধু পালং বা বাধাকপি নয়, মাছেও থাকে ফিতাকৃমি। তবে মাছের ফিতাকৃমি আর সবজির ফিতাকৃমি আলাদা। মাছের ফিতাকৃমি মূলত অন্ত্রে বাসা বাঁধে। বাংলার ৬ ভীষণ চেনা মাছেও থাকতে পারে টেপওয়ার্ম। কোন কোন মাছে জানেন? কীভাবে খেলে ভয়াবহ সংক্রমণ এড়ানো যায়? পড়ুন
বর্ষা যতই সুন্দর হোক, এই সময়ে রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। হুহু করে ছড়ায় সংক্রমণ। বিশেষ করে বর্ষায় ভয় দেখায় ফিতাকৃমির সংক্রমণ। খাবার বা পানীয় জলের মাধ্যমেই এই অসুখ বেশি ছড়ায়। অনেকেই মনের করেন, শুধু শাক-সবজিতেই থাকে ফিতাকৃমি। কিন্তু তা নয়। ‘সেন্টার ফর ডিসিস প্রিভেনশন’ জানাচ্ছে, মাছেও থাকতে পারে ফিতাকৃমি। এই ফিতকৃমির নাম ফিশ টেপওয়ার্ম বা ব্রড টেপওয়ার্ম। এর বৈজ্ঞানিক নাম ডিবোথ্রিওসেফালাস ল্যাটাস।
মাছের ফিতাকৃমি আর সবজির ফিতাকৃমির কোথায় আলাদা–মাছের ফিতাকৃমি সাধারণত মানুষের অন্ত্রে বড় হয়ে ভিটামিন বি১২- এর অভাব ও দুর্বলতা তৈরি করে। তবে সবজির ফিতাকৃমির লার্ভা অন্ত্র ভেদ করে রক্তনালীর মাধ্যমে পেশি, চোখ বা মস্তিষ্কে পৌঁছে যেতে পারে যা অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে।
কাঁচা বা আধসেদ্ধ মাছ খাওয়ার ফলে মাছের ফিতাকৃমি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এটি মূলত মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে বাস করে। সবজির ফিতাকৃমি বলতে মূলত শূকরের ফিতাকৃমির ডিম বা লার্ভাকে বোঝায় যা মলমূত্রের মাধ্যমে মাটিতে বা সবজিতে মিশে যায়। অপরিশোধিত জলে ধোয়া বা না ধুয়ে কাঁচা সবজি যেমন বাঁধাকপি বা ফুলকপি খেলে এটি শরীরে প্রবেশ করে।
মানব শরীরে ফিশ টেপওয়ার্ম ঢুকলে অন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, ইনটেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন তৈরি হয়। পাশাপাশি পিত্তথলি বা গলব্লাডারেও সমস্যা দেখা দেয়
ফিশ টেপওয়ার্ম মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটানো টেপওয়ার্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এরা লম্বায় ৩০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কাঁচা, আধসিদ্ধ, বা সঠিকভাবে রান্না না করা মিষ্টি জলের মাছ থেকে মানুষের শরীরে এই পরজীবী প্রবেশ করে। এটি মূলত মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে বাস করে।
বাংলার কোন কোন মাছে ফিতাকৃমি থাকে– পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক জানাচ্ছেন, অসম্পূর্ণ বা আধসিদ্ধ মাছ থেকে ফিতাকৃমির মতো পরজীবী শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বাংলার অতি পরিচিত রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাবদা ও ট্যাংরা-র মতো মাছে ফিতাকৃমি থাকতে পারে।
মনে রাখবেন, শুধু নুন দিয়ে সংরক্ষণ, ধোঁয়ায় শুকানো বা আচার তৈরি করলে এই পরজীবী মারা যায় না। কম আঁচে রান্না করা বা আধসিদ্ধ মাছ খেলে ফিতাকৃমির লার্ভা সহজে অন্ত্র বা শরীরে ছড়াতে পারে। পুষ্টিবিদ জানান, মাছ তেলে ভাল করে ভেজে খেতে হবে। ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফিতাকৃমি বেঁচে থাকে না। কাঁচা মাছ খেলে অবশ্যই ফিতাকৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
মাছ কীভাবে ডিপ ফ্রিজে রাখবেন?
FDA -এর নির্দেশিকা অনুযায়ী -২০° সেলসিয়াস (-৪° ফারেনহাইট) বা তার কম তাপমাত্রায় টানা ৭ দিন মাছ সংরক্ষণ করা যায়। তাপমাত্রা যদি
-৩৫° সেলসিয়াস (-৩১° ফারেনহাইট) বা তার কম হয়, মাছ সম্পূর্ণ শক্ত হওয়া পর্যন্ত হিমায়িত করুন এবং এরপর -৩৫° সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় অন্তত ১৫ ঘণ্টা রাখুন। অথবা
-৩৫° সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় মাছ সম্পূর্ণ শক্ত হওয়া পর্যন্ত হিমায়িত করুন এবং পরে -২০° সেলসিয়াস (-৪° ফারেনহাইট) বা তার কম তাপমাত্রায় অন্তত ২৪ ঘণ্টা সংরক্ষণ করুন।।
শরীরে ফিশ টেপওয়ার্ম ঢুকে পড়লে কী কী উপসর্গ দেখা দেয়? মাছের ফিতাকৃমি সাধারণত মানুষের অন্ত্রে বড় হয়ে ভিটামিন বি১২ এর অভাব ও দুর্বলতা সৃষ্টি করে। অন্ত্র ও গলব্লাডারে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি পেট ব্যথা, পেটে অস্বস্তি, ডাইরিয়া, বমি, ওজন ও ভিকটামিন বি১২ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
কীভাবে মাছ খেলে ফিতাকৃমি সংক্রমণ রোধ করা যায়?
ফিতাকৃমি সংক্রমণ রোধ করতে কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা মাছ একেবারেই খাওয়া চলবে না। মাছ বাজার থেকে কিনে আনার পর সঠিকভাবে ফ্রিজে রাখলে বা ভালভাবে রান্না করলে পরজীবীরা মরে যায়।
FDA -এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, রান্নার সময় দেখতে হবে যাতে মাছের ভিতরের তাপমাত্রা অন্তত ১৪৫° ফারেনহাইট বা ৬৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে।
(Feed Source: news18.com)
