নিঃশব্দে বিছানায় ঢুকে আসে ‘মৃত্যুদূত’…! কয়েক মুহূর্তেই ঘুমের মধ্যে সব শেষ, কী ভাবে বাঁচবেন সাপের কামড় থেকে? সহজ ‘উপায়’ বলে দিলেন বিধায়ক

নিঃশব্দে বিছানায় ঢুকে আসে ‘মৃত্যুদূত’…! কয়েক মুহূর্তেই ঘুমের মধ্যে সব শেষ, কী ভাবে বাঁচবেন সাপের কামড় থেকে? সহজ ‘উপায়’ বলে দিলেন বিধায়ক

Snake Bite: ভাতার ব্লকে সম্প্রতি একের পর এক সর্পদংশনের ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যুর পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। বাতলে দিলেন সাপের হাত থেকে বাঁচার এক অব্যর্থ উপায়!

ভাতার, পূর্ব বর্ধমান: ভাতার ব্লকে সম্প্রতি একের পর এক সর্পদংশনের ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যুর পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। ফেসবুক লাইভে এসে তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।

বিশেষ করে যাঁরা মাটির বাড়িতে থাকেন এবং মেঝেতে শুয়ে ঘুমান, তাঁদের প্রতি বাড়তি সতর্ক থাকার আবেদন জানান বিধায়ক। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই নাসিগ্রাম, বনপাশ কামারপাড়া, ধাঁদলসা মাঝিপাড়া এবং মহাচান্দা গ্রাম পঞ্চায়েতের গর্দানমাড়ি আদিবাসী পাড়ায় একাধিক সর্পদংশনের ঘটনা ঘটেছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় মোট পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গর্দানমাড়িতে মা ও এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে, অপর এক মেয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ধাঁদলসায় এক ছাত্র এবং নাসিগ্রামে এক গৃহবধূরও সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে সৌমেন কার্ফা জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হবে। বিএমওএইচ, বিডিও, পুলিশ প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, আগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাঠে কাজ করার সময় সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটলেও এখন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মাটির ঘরের ভিতরে সাপের কামড়ের ঘটনাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

তাই যাঁরা মেঝেতে মাদুর, কাঁথা বা চাদর পেতে শোন, তাঁদের অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে চারদিক ভাল ভাবে গুঁজে ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সাধারণ সতর্কতা অনেকাংশে সর্পদংশনের ঝুঁকি কমাতে পারে। বিধায়ক আরও জানান, ভাতার, বর্ধমান-১ এবং বর্ধমান-২ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মাইকিং করে সচেতনতা প্রচার চালানো হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে আদিবাসী ও তফসিলি সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে, যেখানে মাটির বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেশি।

শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমেও সচেতনতার বার্তা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, যেসব অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে মশারি কেনার সামর্থ্য নেই, তারা স্থানীয় বিডিও অফিসে যোগাযোগ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশারি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন বিধায়ক।সবশেষে সৌমেন কার্ফা জোর দিয়ে বলেন, সাপের কামড় লাগলে কোনও অবস্থাতেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হবে।

সময়মতো চিকিৎসা ও অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) প্রয়োগই প্রাণ বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।তিনি সকলকে এই সচেতনতামূলক বার্তা বেশি বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানান, যাতে ভবিষ্যতে সর্পদংশনে প্রাণহানির ঘটনা কমানো যায়।
বনোয়ারীলাল চৌধুরী

(Feed Source: news18.com)