)
Assam girl rape case: ঘরের থালাবাসন দিয়ে তাণ্ডব! ১৫ বছরের এক কিশোরীকে পৈশাচিক নির্যাতন, গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনায় ১৭ থেকে ১৯ বছরের ৩ তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। অপরাধের হাড়হিম করা নির্মমতা দেখে ১৭ বছরের ধৃত কিশোরকে ‘নাবালক’ নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: স্বজনদের আনন্দ-উৎসবের মাঝেই ঘনিয়ে এল ঘোর অন্ধকার। ঘরে ঢুকে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে পৈশাচিক নির্যাতন, গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় অসমের হাইলাকান্দি জেলা। ঘটনার নৃশংসতায় স্তব্ধ সমগ্র বরাক উপত্যকা। এই ঘটনায় ১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৩ তরুণকে গ্রেফতার করেছে আসাম পুলিস। অপরাধের মাত্রা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, ধৃত ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে ‘নাবালক’ হিসেবে নয়, বরং ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ হিসেবে বিচার করার জন্য আদালতে বিশেষ আর্জি জানিয়েছে পুলিস প্রশাসন।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে কাটলিছড়া থানা এলাকার আলোইছড়ায়। ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারেই কিশোরীদের পরিবার ও আত্মীয়দের বাড়ি। কাছেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া চলায় সবাই সেখানে ছিলেন। সামান্য কথা-কাটাকাটি হওয়ায় রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ একা বাড়ি ফিরে আসে ওই কিশোরী। ঘণ্টাখানেক পর রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ পরিজনরা খাবার নিয়ে ঘরে ফিরতেই মেঝের ওপর দেখতে পান কিশোরীর রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। পরিবারের অভিযোগ, শারীরিক নির্যাতনের পর ঘরের থালাবাসন ও অন্যান্য ভারী জিনিসপত্র দিয়ে পৈশাচিক অত্যাচার চালিয়ে মেয়েটির দেহ বিকৃত করে দেওয়া হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের মা বলেন, “আমার মেয়ের মুখ চেনার উপায় ছিল না! একটা মানুষ কীভাবে একটা বাচ্চা মেয়ের ওপর এতটা পৈশাচিক অত্যাচার চালাতে পারে? আমি সবক’টার ফাঁসি চাই।”
পূর্বপরিচিত অভিযুক্তরা, পকসো ও খুনের মামলা
ঘটনার তদন্তে নেমে দ্রুত ৩ তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। হাইলাকান্দির এসএসপি অমিতাভ সিনহা জানান, অভিযুক্তরা কিশোরীর পূর্বপরিচিত ছিল এবং তাদের বাড়ির গতিবিধি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল ছিল। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (ক্রাইম) সমীর দর্পণ বরুয়া জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৬৫(১) (১৬ বছরের কম বয়সীকে ধর্ষণ), ১০৩(১) (খুন) এবং পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় (গুরুতর যৌন নির্যাতন) কড়া মামলা করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোন।
‘নাবালক’ বিচারে ছাড় নয়
এসএসপি অমিতাভ সিনহা বলেন, “ধৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ১৭ বছর ৬ মাস। কিন্তু অপরাধের হাড়হিম করা নির্মমতা দেখে আমরা আদালতে আর্জি জানিয়েছি, যাতে তাকে নাবালক ছাড় না দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে কড়া বিচারে নিয়ে আসা হয়।” এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো এলাকা। দোষীদের ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে দ্রুত ফাঁসির দাবিতে আসাম ও মিজোরামকে সংযোগকারী ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। পরে স্থানীয় বিধায়ক মিলন দাস ও পুলিসের উচ্চপদস্থ কর্তাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। বর্তমানে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিস বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
