Munshi Gamcha: মেশিনের দাপটে বিপন্ন ‘মুন্সি গামছা’, জানেন এর স্পেশালিটি? ঐতিহ্য রক্ষার শেষ লড়াইয়ে মান্নান

Munshi Gamcha: মেশিনের দাপটে বিপন্ন ‘মুন্সি গামছা’, জানেন এর স্পেশালিটি? ঐতিহ্য রক্ষার শেষ লড়াইয়ে মান্নান

 

Munshi Gamcha: আধুনিক পাওয়ারলুম ও সুতোর চড়া দামে অস্তিত্ব সংকটে বসিরহাটের ১৫০ বছরের বিখ্যাত ‘মুন্সি গামছা’। পানিতর গ্রামের একমাত্র অবশিষ্ট কারিগর আব্দুল মান্নান মোল্লা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন ঐতিহ্য। সরকারি সাহায্য পেলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে এই শিল্প। নাহলে হাতেবোনা মুন্সি গামছা আর বেশদিন পাওয়া যাবে না।

এখনও হাতেবোনা মুন্সি গামছার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন এই কারিগর

বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা, জুলফিকার মোল্যা: মেশিনের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে বসিরহাটের দেড়শো বছরের ‘মুন্সি গামছা’, ঐতিহ্যের শেষ প্রহরী এখন একমাত্র কারিগর। গামছা শব্দটির উৎপত্তি ‘গা-মোছা’ থেকে। তবে এটি শুধু শরীর মোছার কাপড় নয়, বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ‘মুন্সি গামছা’ একসময় ছিল বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় হস্তশিল্প। আকারে বড়, খাঁটি সুতির উন্নত মানের কাপড়ে তৈরি, টেকসই ও আরামদায়ক হওয়ায় এই গামছার বিশেষ সুনাম ছিল।

ইতিহাস গবেষকদের মতে, ব্রিটিশ আমল থেকেই বসিরহাট মহকুমা ছিল দেশীয় তাঁতশিল্পের একটি বড় কেন্দ্র। ইছামতী নদী তীরবর্তী পিফা, ভ্যাবলা, কেয়ামারি, মাটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য হাতচালিত তাঁতঘর গড়ে উঠেছিল। এখানেই তৈরি হত বিখ্যাত ‘মুন্সি গামছা’, যা কলকাতা থেকে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হত। সময়ের সঙ্গে প্রায় সব তাঁতঘর বন্ধ হয়ে গেলেও পানিতর গ্রাম দীর্ঘদিন এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছিল।

বর্তমানে আধুনিক পাওয়ারলুমে তৈরি সস্তা গামছা, সুতোর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কম আয়ের কারণে একের পর এক হাতচালিত তাঁতঘর বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একসময় যে গ্রামে মাকুর খটখট শব্দ শোনা যেত, আজ সেখানে ভাঙাচোরা কারখানা আর ধুলোয় ঢাকা তাঁতই অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে। এই অবস্থাতেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন পানিতর গ্রামের কারিগর আব্দুল মান্নান মোল্লা। সংসারের প্রয়োজনে দিনমজুরির কাজ করলেও সময় পেলেই হাতে গামছা বোনেন। তাঁর কথায়, আগে গোটা গ্রাম এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন সুতোর দাম বেড়েছে, আয় কমেছে, তাই সবাই অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন।

এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে সুতোয় ভর্তুকি ও কারিগরদের ন্যায্য মজুরি প্রয়োজন। প্রাক্তন তাঁতি নুর হোসেন মোল্লা জানান, লাভ না থাকায় তাঁদের পরিবারও বহু বছরের পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গিয়েছে। স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী তপন বিশ্বাসের দাবি, বসিরহাটের বড়, টেকসই ও আরামদায়ক মুন্সি গামছার চাহিদা এখনও রয়েছে। কিন্তু কারিগরের অভাবে উৎপাদন প্রায় বন্ধ। সরকারি সহায়তা ও সুতোয় ভর্তুকি মিললে এই শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আজ আব্দুল মান্নান মোল্লার হাতের তাঁতই বসিরহাটের দেড়শো বছরের ঐতিহ্যের শেষ প্রতীক। সময়মতো সরকারি উদ্যোগ না এলে পানিতরের এই শেষ তাঁতের শব্দও একদিন থেমে যাবে, আর বাংলা হারাবে তার অন্যতম প্রাচীন লোকশিল্পের একটি গৌরবময় অধ্যায়।