)
Son Excludes Mother From Wedding: নিজের বিয়েতে জন্মদাত্রী মাকে ডাকেননি এক কর্মী। কারণ, মায়ের চেহারা নিয়ে অতিথিদের সামনে লজ্জিত হওয়ার ভয় ছিল তাঁর। মানে, তাঁর বিচারে তাঁর মা দেখতে খারাপ! এদিকে এই অপরাধে ওই কর্মীকে বরখাস্ত করেছেন চিনের এক প্রতিষ্ঠানের সিইও। ঘটনাটি ঘিরে এখন নেট–দুনিয়ায় চলছে ব্যাপক তোলপাড়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কুলাঙ্গার? কী বলা চলে এরকম ছেলেকে? নিজের বিয়েতে জন্মদাত্রী মাকেই ডাকেননি তিনি। কারণ, মায়ের চেহারা নিয়ে অতিথিদের সামনে লজ্জিত হওয়ার ভয় ছিল তাঁর। মানে, তাঁর বিচারে, তাঁর মা দেখতে খারাপ! এদিকে এই অপরাধে ওই কর্মীকে বরখাস্ত করলেন যে কোম্পানিতে ছেলেটি চাকরি করেন সেই প্রতিষ্ঠানের সিইও। ঘটনাটি ঘিরে নেট–দুনিয়ায় চলছে ব্যাপক তোলপাড়।
হতভাগিনী মা একা
চিনের হেনান প্রদেশের এক ক্রেন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান চুই পেইজুন সম্প্রতি কর্মীদের একটি অনুষ্ঠানে এ কথা জানান। কর্মীদের মোটা অঙ্কের বোনাস দিয়ে তিনি চিনের সবচেয়ে উদার বস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এহেন চুই পেইজুন জানান, তিনি ওই কর্মীর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন, বরের বৃদ্ধা মা এই আয়োজনে নেই। কেন? খোঁজ নিয়ে তিনি জানেন, হতভাগিনী মা কারখানার পাশে একা বসে আছেন। বিষয়টিতে সন্দেহ হলে তিনি ওই কর্মীকে প্রশ্ন করেন।
তখন তাঁর কর্মী জানান, তিনি মাকে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাননি। কেননা, মায়ের সাধারণ রূপ ও চেহারা অতিথিদের সামনে তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে বলে তিনি ভেবেছিলেন।
অগ্নিশর্মা বস
শুনে অগ্নিশর্মা হলেন ওই বস। তিনি তাঁর কর্মীর মুখে এমন কথা শুনে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। তিনি বিবাহোদ্যত ওই কর্মীকে মনে করিয়ে দেন, শৈশবে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পরে এই মা-ই তাঁকে একা কষ্ট করে মানুষ করেছেন। অথচ, ছেলে আজ বড় হয়ে মাকে এই ভাবে অপমান করল? এর পরই তিনি ওই কর্মীকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করেন।
চাকরি ফেরত নয়
পরবর্তী সময়ে ওই কর্মী ক্ষমা চেয়ে চাকরি ফেরত পেতে চান। আকুতি জানান বসের কাছে। কিন্তু চুই পেইজুন নিজের সিদ্ধান্ত বদলান না। তিনি বরং ওই ছেলেকে সাফ জানিয়ে দেন, যে ব্যক্তি জন্মদাত্রী মাকে সম্মান দিতে পারেন না, তাঁর প্রতিষ্ঠানে তাঁর মতো কোনও সন্তানের কোনো স্থান নেই।
মাকে চাকরি
তবে কর্মী বরখাস্ত হলেও বৃদ্ধ মায়ের আর্থিক সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন চুই পেইজুন। তিনি ওই মাকে নিজের প্রতিষ্ঠানের লজিস্টিকস বিভাগে চাকরি দিয়েছেন। সেখানে তাঁকে ছেলের সমপরিমাণ বেতনই দেওয়া হচ্ছে।
সোশ্যালে তর্ক
এদিকে সোশ্যালে বিষয়টি জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকে বসের মানবিক মূল্যবোধের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতাহীন কোনো কর্মী প্রতিষ্ঠানে রাখার যোগ্য নন। অন্য দিকে অনেকে আবার বলছেন, পেশাগত যোগ্যতার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে কর্মী বরখাস্ত করা শ্রম আইনের পরিপন্থী। একজন মালিকের এ ক্ষেত্রে নৈতিক বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়াটা ঠিক নয়।
(Feed Source: zeenews.com)
