)
“জেন জি-কে আমি অন্ধভাবে বিশ্বাস করি!” জেন জি-র আন্দোলন, অধিকার ও প্রশ্নের মুখ বন্ধ না করে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, প্রতিবাদ করা মানেই দেশবিরোধী হওয়া নয়, বরং তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সৎ প্রজন্ম। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—কী বললেন ভাগবত?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের স্বপক্ষে জোরাল বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। মুম্বইয়ে ‘ইন্ডিয়ানস ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস’ (আইআইএমইউএন)-এর ১৫তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রায় ২,০০০ জেন জি (Gen Z) ও জেন আলফা (Gen Alpha) সদস্যের সামনে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ছাত্র বা তরুণরা যদি কোনও বিষয়ে আন্দোলন করে, তবে তাদের অন্ধভাবে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়া একেবারেই অনুচিত।
“আমি জেন জি-কে চোখ বুজে বিশ্বাস করব”
সম্প্রতি তরুণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভাগবত জানান, সম্পূর্ণ সত্য না জেনে কাউকে বিচার করা উচিত নয়। টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের মতো রিপোর্ট সামনে এলেও তিনি তরুণদের ওপরই নিজের বিশ্বাস রাখেন। তিনি বলেন, “যদি আমাকে বিশ্বাস করতেই হয়, তবে আমি জেন জি-কেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করব।” তবে একই সঙ্গে আন্দোলনে কোনও অসামাজিক উপাদান জড়িয়ে রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
ভাগবতের মতে, “যদি জেন জি কোনও আন্দোলনে অংশ নেয়, তবে তারা দেশবিরোধী হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই সন্তান, আমাদের আগামী প্রজন্ম। তাদের কথা বুঝতে হলে এবং সমস্যার সমাধান করতে হলে এক পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”
তরুণ প্রজন্ম ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ
আজকের প্রজন্মের সততার প্রশংসা করে আরএসএস প্রধান বলেন, আগের প্রজন্মের তুলনায় জেন জি এবং জেন আলফা অনেক বেশি সৎ। প্রবীণরা যেখানে কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করতে ইতস্তত করত, সেখানে আজকের তরুণরা যুক্তি ও ভালোবাসা দিয়ে স্পষ্ট উত্তর চায়।
গণতন্ত্রে আন্দোলনের গুরুত্ব স্বীকার করে তিনি মন্তব্য করেন, “গণতন্ত্রে প্রতিবাদও একটি আলোচনার মাধ্যম। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ঘাটতি রয়েছে এবং সেগুলি সংশোধনের প্রয়োজন আছে। আমি কখনও বলব না যে তরুণদের প্রতিবাদ করা উচিত নয়। কিন্তু দেখতে হবে তাদের চিৎকারটা বিরোধিতার জন্য নয়, বরং ব্যবস্থার উন্নতির জন্য।”
শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাজমাধ্যম ও এলজিবিটিকিউ+ নিয়ে নিজস্ব মতামত
শিক্ষাব্যবস্থাকে বাণিজ্যিক ব্যবসা না বানানোর আহ্বান জানিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, শিক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। বাজেটে শিক্ষার জন্য ৬% বরাদ্দের বহু পুরোনো দাবিকে সমর্থন করে তিনি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সামাজিক সচেতনার ওপর জোর দেন। সমাজমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং হিংসাত্মক কনটেন্ট বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল আইন বানিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তরুণরা হিংসা পছন্দ না করলেও কেন হিংসাত্মক ভিডিওতে বেশি লাইক পড়ে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
(Feed Source: zeenews.com)
