)
NEET paper leak CBI chargesheet: কী করতেন ৩ NTA কর্তা? কীভাবে ফাঁস প্রশ্ন? সিবিআই জানিয়েছে, এনটিএ-র ‘কনফিডেনশিয়াল সেকশন’-এ যাতায়াতের সময় বিশেষজ্ঞদের কোনও শারীরিক তল্লাশি করা হত না। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ নজরদারির জন্য উপযুক্ত লাইভ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও ছিল না।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় ৯৪ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। আর সেই চার্জশিটে সিবিআই নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি কেবল সাধারণ জালিয়াতি নয়, বরং একাধিক রাজ্যজুড়ে ছড়ানো এক সুপরিকল্পিত আন্তঃরাজ্য অপরাধমূলক চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে। সিবিআইয়ের চার্জশিট অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্রের মূল শেকড় ছড়িয়ে ছিল মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, দিল্লি ও বিহার সহ দেশের একাধিক রাজ্যে। এই বিশাল নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে ছিলেন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিরই তিন বিশেষজ্ঞ— কেমিস্ট্রির প্ৰহ্লাদ ভিঠলরাও কুলকার্নি, বোটানির মণীষা মানধারে এবং ফিজিক্সের মণীষা সঞ্জয় হাভালদার। দিল্লি অফিসের কনফিডেনশিয়াল সেকশন থেকে প্রশ্নপত্র বের করার পর সেই প্রশ্ন পৌঁছে যেত পুণে, জয়পুর, পাটনা এবং নাসিকের মতো বিভিন্ন শহরের দালাল ও কোচিং সেন্টার পরিচালকদের হাতে।
কী করতেন ৩ NTA কর্তা? কীভাবে ফাঁস প্রশ্ন?
সিবিআই চার্জশিটে উল্লেখ, ৩ বিশেষজ্ঞ-ই প্রশ্ন মুখস্থ করে চিরকুটে লিখতেন। তারপর উত্তর চিহ্নিত করে দিতেন বইয়ে। রসায়ন বিশেষজ্ঞ কুলকার্নি এনটিএ অফিসের ভিতরের রাফ খাতার কাগজ কেটে ছোট ছোট চিরকুট তৈরি করতেন। তাতে সংক্ষেপে ১৩৫টি প্রশ্ন ও উত্তর লিখে গোপনে পকেটে করে বাইরে নিয়ে যান। বোটানি বিশেষজ্ঞ মণীষা মানধারে প্রশ্নগুলি মুখস্থ করে হোটেলে ফিরে এনসিইআরটি-র বইয়ে সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলি চিহ্নিত করে রাখতেন। তারপর তাঁরা পুনে ও অন্যান্য স্থানে কোচিং ক্লাসে বিপুল টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের সেই প্রশ্ন ও উত্তর নিখুঁতভাবে লিখে দিতেন।
সিবিআই জানিয়েছে, এনটিএ-র ‘কনফিডেনশিয়াল সেকশন’-এ যাতায়াতের সময় বিশেষজ্ঞদের কোনও শারীরিক তল্লাশি করা হত না। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ নজরদারির জন্য উপযুক্ত লাইভ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও ছিল না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার এই চরম গাফিলতির সুযোগ নিয়েই এত বড় দুর্নীতির ছক কষেছিলেন প্রশ্নফাঁসে জড়িত ৩ বিশেষজ্ঞ।
ভারতীয় দণ্ডবিধির দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব ইমপ্রপার কনডাক্ট) অ্যাক্ট, ২০২৪-এর অধীনে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। যার মধ্যে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং তথ্য-প্রমাণ লোপাটের মতো ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল হয়। ১২ মে নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্তভার সিবিআই-এর ওপর ন্যস্ত হয়। এরপর ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।
তদন্তে নেমে সিবিআই মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা, দিল্লি এবং অন্যান্য রাজ্যে মোট ৯২টি স্থানে অভিযান চালায়। ২ মাস ধরে চলা তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল নেটওয়ার্ক অবশেষে সামনে এসেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
