
Who is Neha Bora: রাঁচিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় কালি নিক্ষেপের ঘটনায় ফের আলোচনায় AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বরা। জানুন তাঁর শিক্ষা, JNU-র গবেষণা, ছাত্র রাজনীতির যাত্রা, ২৩ দিনের অনশন ও বিতর্কের নানা অধ্যায়।
ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে JPSC-JSSC পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চলছে ছাত্র আন্দোলন৷ সেখানেই AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার উপর কালি ছোঁড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ইনিই সেই নেহা বোরা, যাঁকে যন্তর মন্তরে অভিজিৎ দিপকেদের পাশে অনশন করতে দেখা গিয়েছিল৷ সম্প্রতি, রাহুল গান্ধির পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠকও করেছিলেন এই নেহা৷ জাতীয় স্তরে নেহা বোরার পরিচিতি আজকের নয়। ছাত্র আন্দোলন, শিক্ষা সংক্রান্ত দাবি, দীর্ঘ অনশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির মাধ্যমে তিনি গত কয়েক বছরে দেশের অন্যতম পরিচিত ছাত্রনেত্রী হিসেবে উঠে এসেছেন। দেখে নেওয়া যাক নেহা বোরার জীবন ও রাজনৈতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়৷
রাঁচি কাণ্ডে ফের শিরোনামে নেহা বরা
JPSC-JSSC পরীক্ষার বিতর্ক নিয়ে রাঁচিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলাকালীন নেহা বোরার উপর কালি ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ছাত্র মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেহা বোরার জন্ম উত্তরাখণ্ডে হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে দেশের একাধিক শহরে। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে অন্য রাজ্যের বিভিন্ন শহরে থেকেছেন৷ সেই কারণে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে তিনি পরিচিত।
স্কুলজীবনেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়
শিলিগুড়ির দিল্লি পাবলিক স্কুল (DPS) এবং পরে বেঙ্গালুরুর আর্মি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন নেহা। ছোটবেলা থেকেই নাটক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। স্কুলজীবন শেষ করে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এই সময় থেকেই ছাত্র রাজনীতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার আন্দোলনের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীকালে ড. ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন নেহা বরা। উচ্চশিক্ষার এই পর্যায়ে ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা আরও গভীর হয়।
বর্তমানে JNU-তে পিএইচডি গবেষক
বর্তমানে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) School of Arts and Aesthetics-এ পিএইচডি গবেষণা করছেন নেহা। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র সংস্কৃতি, শিল্প, সমাজ ও রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক। প্রথমদিকে রাজনীতিতে আসার কোনও পরিকল্পনা ছিল না নেহার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফি বৃদ্ধি, বৃত্তি, হস্টেল সমস্যা, সরকারি শিক্ষার প্রসার এবং ছাত্রদের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিতে শুরু করেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা।
AISA-তে উত্থান, জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব
দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কাজ করার পর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে সংগঠনের জাতীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। JNU-র ছাত্র রাজনীতিতে AISA দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী সংগঠন। শিক্ষা নীতি, নিয়োগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ছাত্র অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নেহা বরার পরিচিতি জাতীয় স্তরে পৌঁছে যায়।
২৩ দিনের অনশন এনে দেয় জাতীয় পরিচিতি
একটি বড় ছাত্র আন্দোলনের সময় টানা ২৩ দিন অনশন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন নেহা বরা। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান। এই ঘটনাই তাঁকে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। অনশনের সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন। অভিনেত্রী শাবানা আজমি, সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাঁর পাশে দাঁড়ান।
বিতর্কও পিছু ছাড়েনি
ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু স্লোগান এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন নেহা বোরা। সমালোচকরা প্রশ্ন তুললেও AISA বরাবর দাবি করেছে, তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে ছাত্রদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সমর্থকদের মতে, নেহা বরা শুধু একজন ছাত্র সংগঠনের নেতা নন, বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ছাত্র অধিকার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার এক তরুণ কণ্ঠস্বর। রাঁচির সাম্প্রতিক ঘটনাও তাঁকে ফের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
(Feed Source: news18.com)
