)
মা যে মা’ই হয়। সে মানুষ হোক বা পশু। অবর্ণণীয় আবেগের আজও কোনও ভাষা নেই। যে ঘটনা পড়তে চলেছেন, তা আপনার চোখ ভিজিয়ে দেবে। হয়তো ঘটনার রেশ কাটাতেও দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। তবুও এই ভিডিয়ো দেখুন, ডলফিনের আবেগ দেখুন…
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারত মহাসাগরের বুক চিরে, পিঠে মৃত সদ্যোজাত শাবককে নিয়ে সাঁতরাচ্ছে মা! সঙ্গে আরও ১৪ ডলফিন। মা কিছুতেই তার সন্তানকে ডুবতে দিচ্ছে না অতল সাগরের গভীরে! বিজ্ঞানী ও বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষকদের শেয়ার করা এই মর্মান্তিক ভিডিয়ো দেখে নেটপাড়ার চোখ ঠিকরে জল বেরিয়ে আসছে। গবেষকদের দেওয়া নাম অনুযায়ী, স্ত্রী বটলনোজ ডলফিনটির নাম ফ্র্যাগল। সংরক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ‘জিওগ্রাফ মেরিন রিসার্চ, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলজুড়ে ডলফিনের জনসংখ্যার উপর নজরদারি চালায়। এই ভিডিয়ো তারা ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছে, ‘গত সপ্তাহের শেষ দিকের ঘটনা। আমরা ডলফিন ফ্র্যাগলকে তার মাত্র দু’সপ্তাহ বয়সী শাবকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ অবস্থায় দেখি। শীতকালে শাবকের জন্ম হওয়ায় তার বেঁচে থাকার লড়াই যে কঠিন হবে, তা আমরা জানতামই। তবুও আশা ছিল ফ্র্যাগল আবারও হয়তো সফল ভাবে মা হতে পারবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক, সে তার টানা শেষ চারটি শাবককেই হারাল। শেষ মৃত শাবকটির শ্বাস-প্রশ্বাসের হার অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যেতে দেখেছিলাম। তখনই আশঙ্কা করেছিলাম, এই দিন হয়তো আসতে চলেছে।’
এই রীতি চেনা…
বিজ্ঞানীদের মতে, মৃত সন্তানকে দীর্ঘ সময় ধরে বয়ে বেড়ানোর এই আচরণ প্রায়শই প্রাণিজগতে দেখা যায়। যা শোক পালনের এক রীতি হিসেবে অভিহিত করা হয়। ডলফিন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সামাজিক প্রাণী এবং এদের মধ্যে গভীর আবেগের বন্ধন রয়েছে। কোনও শাবক মারা গেলে মা ডলফিন প্রায়ই তার দেহটি জলের গভীরে তলিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে জলের উপরের ভাগের কাছাকাছি রাখে। কখনও কখনও তারা শাবকের দেহট ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা এমনকী দিনের পর দিন বয়ে বেড়ায়। ‘শোকের সময় ডলফিনরা তাদের মৃত শাবককে বয়ে বেড়ায়। এই প্রক্রিয়াটি অনেক দিন পর্যন্ত চলতে পারে। তবে বেঁচে থাকার তাগিদে এক পর্যায়ে তাকে শাবকের দেহ ছেড়ে দিয়ে তাকে খেতে হয়। সেই সময়টি এখন ঘনিয়ে এসেছে।’ পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে যে, দলের অন্য ডলফিনরা কখনও কখনও শোকাতুর মায়ের পাশাপাশি সাঁতার কাটে এবং তাকে সুরক্ষা দেয় কিংবা শাবকের দেহ ভাসিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ক্ষণিকের সহায়তা করে। ‘এই মোহনায় খুব কম সংখ্যক ডলফিনই স্থায়ী বসবাস করে, তাই অধিকাংশ বছরই আমরা কোনও নবজাতক শাবক দেখতে পাই না। আর জন্ম নিলেও তাদের বেঁচে থাকার হার বেশ কম। তবে এবার দেখলাম গভীর সমুদ্রের কিছু ডলফিন বন্ধু স্থানীয় ডলফিনদের সঙ্গে যোগ দিয়ে তার শোকে শামিল। যা তাদের মধ্যের দৃঢ় পারিবারিক বন্ধনেরই বহিঃপ্রকাশ।’জিওগ্রাফ মেরিন রিসার্চ জানাচ্ছে ৬ দিন ধরেই এই মা ডলফিন তার সন্তানকে পিঠে নিয়ে সাঁতরাচ্ছে। আর সঙ্গ দিচ্ছে আরও ১৪ ডলফিন!
(Feed Source: zeenews.com)
