
PM Modi-JD Vance: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ফোনে কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য চুক্তি ও সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি নিয়ে জটিল সমীকরণের মধ্যেই হল এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ফোনে কথা প্রধানমন্ত্রীর
নয়াদিল্লি: শনিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত-আমেরিকা ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এক্স-এ (X) পোস্ট করে এই ফোনালাপের বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে।
এদিনের ফোনালাপে জেডি ভান্স এবং তাঁর স্ত্রী, ‘সেকেন্ড লেডি’-কে তাঁদের পুত্রসন্তানের জন্মের জন্য অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে ভান্সের গোটা পরিবারকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকার মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই ফোনালাপ৷
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, ‘‘মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ফোন পেয়েছি। ভারত-মার্কিন কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তাঁর এবং সেকেন্ড লেডির পুত্রসন্তান জন্মের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছি এবং গোটা পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’’
ভারত-মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ফোনালাপ হল, যখন দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ সংবেদনশীল পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার মার্কিন সেনেট রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ করেছে। ওই বিল আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে যেতে পারে। সেই সম্ভাব্য শুল্কের প্রভাব পড়তে পারে ভারতের উপরও। তবে আইনে পরিণত হওয়ার আগে বিলটিকে এখনও মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাশ হতে হবে।
অন্যদিকে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই মাসে এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছিলেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্য চুক্তিই আলোচনার অন্যতম মূল বিষয়
এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও আমেরিকা একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। সেই কাঠামোয় দুই দেশের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার এবং আরও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। পাশাপাশি, আরও বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছিল।
এদিকে, ভারতের একটি সংসদীয় কমিটি সরকারকে দ্রুত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে।
ফলে নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি এমনিতেই জটিল আলোচনায় আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বর্তমানে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা মূলত বাজারে প্রবেশাধিকার, শুল্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করেই চলছে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ভারত ও আমেরিকা। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ‘বিস্তৃত বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে উভয় পক্ষই।
এই পরিস্থিতিতে জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোনালাপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন, অন্যদিকে বাণিজ্য আলোচনা এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের মধ্যেও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
(Feed Source: news18.com)
