
EMI-তে কেনা স্মার্টফোন লক করা নিয়ে নতুন নিয়ম জারি করেছে RBI। জেনে নিন, ব্যাঙ্ক কখন ফোন লক করতে পারবে, কোন কোন পরিষেবা চালু থাকবে এবং পেমেন্ট করার পর কত সময়ের মধ্যে ফোন আনলক করতে হবে।
আজকাল EMI-তে স্মার্টফোন কেনা খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অনেক ব্যাঙ্ক ও ফাইন্যান্স সংস্থা কিস্তি পরিশোধ না করলে ফোন রিমোটলি লক করে দেয়। এই বাড়তে থাকা প্রবণতা নিয়ে এবার কড়া নিয়ম জারি করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। নতুন নিয়মে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, ব্যাঙ্ক কখন কোনও ডিভাইস লক করতে পারবে, লক হওয়ার পরও কোন কোন পরিষেবা চালু থাকবে এবং পেমেন্ট করার পর কত সময়ের মধ্যে ফোন আনলক করতে হবে!
RBI-এর এই নতুন ফ্রেমওয়ার্ক ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। এটি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং রিকভারি এজেন্টদের নিয়ে সংশোধিত নির্দেশিকার অংশ। প্রথমবার প্রযুক্তিনির্ভর ঋণ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বিস্তারিত নিয়মও তৈরি করা হয়েছে।
RBI লক্ষ্য করেছে, অনেক ব্যাঙ্ক ও ফাইন্যান্স সংস্থা EMI বকেয়া থাকলে প্রযুক্তির সাহায্যে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপ রিমোটলি লক করে দিচ্ছে। ব্যাঙ্কের পাওনা টাকা আদায়ের অধিকার থাকলেও RBI চায় না, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকদের হয়রানি করা হোক। সেই কারণেই ডিভাইস লক করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, নোটিস, সময়সীমা এবং গ্রাহকের অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাঙ্ক কি যেকোনও ফোন লক করতে পারবে? এর এক কথায় উত্তর—না। RBI স্পষ্ট করেছে, রিমোট লকিং শুধুমাত্র সেই ডিভাইসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যার জন্য ঋণ নেওয়া হয়েছে। আপনি যদি ব্যক্তিগত ঋণ, কনজিউমার লোন বা অন্য কোনও কারণে ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে ব্যাঙ্ক আপনার আগে থেকেই থাকা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ রিমোটলি লক করতে পারবে না। একটি EMI মিস করলেই ফোন লক হবে না।
RBI-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাত্র একটি EMI মিস হলেই ব্যাঙ্ক সঙ্গে সঙ্গে ফোন লক করতে পারবে না। ডিভাইসে প্রথমবারের মতো বিধিনিষেধ তখনই আরোপ করা যাবে, যখন লোন অ্যাকাউন্ট অন্তত ৩০ দিন ধরে বকেয়া থাকবে। এর পরও ব্যাঙ্ককে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে। লোন ৬০ দিন পর্যন্ত বকেয়া থাকলেই ব্যাঙ্ক বা ফাইন্যান্স সংস্থা ডিভাইস পুরোপুরি লক করতে পারবে। এর অর্থ, গ্রাহককে টাকা পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ফোন বন্ধ করে দেওয়া যাবে না।
RBI স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ফোনকে পুরোপুরি অকেজো করে দেওয়া যাবে না। ফোন লক হওয়ার পরও কিছু জরুরি পরিষেবা চালু রাখা বাধ্যতামূলক হবে। এর মধ্যে ইনকামিং কল, SMS, SOS এবং জরুরি যোগাযোগ, চাকরি ও কাজের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল, EMI দেরিতে পরিশোধ হলেও গ্রাহক যেন সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন।
RBI গোপনীয়তার বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দিয়েছে। ডিভাইস লক করার প্রযুক্তি ব্যবহার করার সময় ব্যাঙ্ক বা ফাইন্যান্স সংস্থা গ্রাহকের সমস্ত তথ্যের অ্যাক্সেস নিতে পারবে না। এর মধ্যে কনট্যাক্ট লিস্ট, ছবি-ভিডিও, SMS, কল লগ, লোকেশন হিস্ট্রি এবং লোন আদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন কোনও ব্যক্তিগত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হবে। এছাড়া ফোন লক করার আগে গ্রাহককে জানানো বাধ্যতামূলক হবে। লোন অনুমোদনের সময়ই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে ডিভাইস রিমোটলি লক করা যেতে পারে। এছাড়াও, লকিং কার্যকর করার আগে গ্রাহককে আগাম নোটিস দিয়ে বকেয়া পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে।
গ্রাহক যদি বকেয়া টাকা পরিশোধ করে দেন অথবা লোন অ্যাকাউন্ট সেটেল করেন, তাহলে ব্যাঙ্ককে সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যে ডিভাইস আনলক করতে হবে। RBI জানিয়েছে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেরি করা যাবে না। পেমেন্ট করার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফোন আনলক না করা হলে ব্যাঙ্ক বা ফাইন্যান্স সংস্থাকে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। RBI-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টা দেরির জন্য ২৫০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে মোট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বকেয়া লোনের টাকার চেয়ে বেশি হবে না।
(Feed Source: news18.com)
