
Success Story: কোচিং ছাড়াই ইউপিএসসিতে সাফল্য, বাস কন্ডাক্টরের মেয়ে থেকে ডিআইজি– শালিনী অগ্নিহোত্রীর অনন্য লড়াই জানুন, গর্ব হবে।
১. সাধারণ পরিবার থেকে অসাধারণ সাফল্য
হিমাচল প্রদেশের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম শালিনী অগ্নিহোত্রীর। বাস কন্ডাক্টরের মেয়ে থেকে আজ তিনি দেশের পরিচিত মহিলা আইপিএস অফিসারদের অন্যতম। ইউপিএসসিতে প্রথম চেষ্টাতেই অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২৮৫ অর্জন করে বর্তমানে ডিআইজি পদে পৌঁছেছেন তিনি।
২. বাবার সীমিত আয়, তবু পড়াশোনায় জোর
শালিনীর বাবা ছিলেন হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাস কন্ডাক্টর। সীমিত আয়ের মধ্যেও তাঁর পরিবার পড়াশোনাকে সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে। স্কুলজীবন থেকেই মেধাবী শালিনী দশম শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৭৭ শতাংশ নম্বর পান। পরে হিমাচল প্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
৩. মায়ের অপমানই বদলে দেয় জীবনের লক্ষ্য
ছোটবেলায় বাসে যাতায়াতের সময় শালিনীর মাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে না পারার অসহায়তা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করে। তখনই তিনি ঠিক করেন, এমন একটি জায়গায় পৌঁছবেন, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারবেন। এই ঘটনাই তাঁকে সিভিল সার্ভিসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায়।
৪. কোনও কোচিং ছাড়াই ইউপিএসসি প্রস্তুতি
শালিনী অগ্নিহোত্রী ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোনও কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হননি। নিজেই পড়াশোনা করেছেন। অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি।
৫. প্রথম চেষ্টাতেই বড় সাফল্য
২০১১ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম প্রচেষ্টাতেই অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২৮৫ অর্জন করেন শালিনী। এরপর ভারতীয় পুলিশ পরিষেবায় নির্বাচিত হন। তাঁর সাফল্য দেখিয়ে দেয়, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব।
৬. পুলিশি জীবনে একের পর এক দায়িত্ব
আইপিএস হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর শালিনী অগ্নিহোত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বের জন্য তিনি প্রশংসিত হন। পরবর্তীতে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল বা ডিআইজি পদে উন্নীত হন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় দায়িত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
৭. পরিস্থিতি নয়, লক্ষ্যই সাফল্যের পথ দেখায়
শালিনী অগ্নিহোত্রীর জীবন শুধু ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের নয়, প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার। মায়ের অপমানের জবাব তিনি প্রতিশোধের মাধ্যমে নয়, নিজের সাফল্যের মাধ্যমে দিয়েছেন। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, লক্ষ্য স্থির থাকলে সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
(Feed Source: news18.com)
