)
Seema Das content creator Priyatama’s husband news: পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমা দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। স্বামী মনোজিৎকেও তাঁর সঙ্গে একাধিক ভিডিয়োতে দেখা যেত। প্রায় তিন বছর আগে তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক বিবাহের রূপ নেয়।
কিরণ মান্না: সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর সীমা দাস ওরফে ‘প্রিয়তমা’র আকস্মিক মৃত্যুর পরই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁর স্বামী মনোজিৎ শাসমল। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থানা এলাকার এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় মনোজিৎকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে তমলুকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
রিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমা দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। স্বামী মনোজিৎকেও তাঁর সঙ্গে একাধিক ভিডিয়োতে দেখা যেত। প্রায় তিন বছর আগে তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক বিবাহের রূপ নেয়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট আপলোড করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সীমার আকস্মিক মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায় হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের। স্ত্রীর এই মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি মনোজিৎ বলে পরিবারের দাবি।
গত শনিবার রাতে তমলুকের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় প্রিয়তমার। পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিষাক্ত রাসায়নিক খেয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রিয়তমার আসল নাম সীমা দাস শাসমল। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাচের ভিডিয়ো পোস্ট করতেন প্রিয়তমা। কম সময়েই নেটপাড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তরুণীর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ নেটপাড়া।
কে এই প্রিয়তমা
প্রিয়তমা ওরফে সীমার বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের পায়রাচালি গ্রামে। তিন বছর আগে মনোজিৎ ও সীমার লাভ ম্যারেজ হয়।
কী ভাবে মৃত্যু হয় প্রিয়তমার?
গত শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে সীমা ও তাঁর স্বামী মনোজিতের বাড়িতে। মনোজিৎ পরচুলা তৈরি ও বিক্রির কাজ করতেন। সীমাও সেই কাজে স্বামীকে সাহায্য করতেন। সেদিন বিকেলে মনোজিৎ বাইরে পরচুলা ডেলিভারি দিতে গেলে বাড়িতে একাই ছিলেন সীমা।
পরিবারের কী দাবি?
পরিবারের দাবি, ঠিক সেই সময়েই তিনি পরচুলা রং করার কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক খেয়ে ফেলেন প্রিয়তমা। সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে চণ্ডীপুরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তমলুকের একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু চিকিত্সকের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও রাত আনুমানিক ১২টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে সোশ্যালে অ্যাক্টিভ
অথচ অন্য়দিকে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ ছিলেন সীমা। গত শনিবার সকালে নিজের ফেসবুকে তারকেশ্বরে জল ঢালতে যাওয়ার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি, যেখানে তাঁকে বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছিল। গত সোমবার স্বামী মনোজিতের সঙ্গেই তারকেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়েছিলেন তিনি।
জানা যায়, স্ত্রীর মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি স্বামী মনোজিত্। রবিবার বাড়িতে ফিরে নিজের ঘরে চলে যান তিনি। দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ থাকার পর পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাননি। পরে দরজা খুলে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে তমলুকে রেফার করা হয়।
একই পরিবারের পরপর দু’টি ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিমুখে নিজেদের জীবন তুলে ধরলেও বাস্তব জীবনে মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার সঙ্গে অনেকেই লড়াই করেন– এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সেই বিষয়টিই সামনে এসেছে।
সীমার দাদু বিষ্ণুপদ শাসমলের মতে, তাঁদের সংসারে কোনও অশান্তির কথা পরিবারের জানা ছিল না। কোনও লিখিত অভিযোগ না থাকলেও, সব তথ্য খতিয়ে দেখে মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটনে নেমেছে চণ্ডীপুর থানার পুলিস।
(Feed Source: news18.com)
