)
দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে বলপ্রয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। সাধারণ বক্তব্যের পরিবর্তে স্পষ্ট উত্তরের দাবিতে অনড় বিরোধীরা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ছাত্র আন্দোলনে পুলিসি পদক্ষেপ এবং পেলেট গান ও তারকাঁটা লাগানো লাঠি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ তীব্র করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির বিক্ষোভে ছাত্রদের ওপর পুলিশের কথিত বলপ্রয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। সোমবার সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব সশব্দে প্রত্যাখ্যান করে রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ফ্যান্টাসি বা কাল্পনিক কথাবার্তায় বিরোধীদের কোনো আগ্রহ নেই।” তার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানাতে হবে, দিল্লি পুলিশকে শিক্ষার্থীদের ওপর এই কঠোর পদক্ষেপে ছাড়পত্র কে দিয়েছিল।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিরোধীদের টানা তোপের মুখে পড়েছে মোদী সরকার। মোদী এবং শাহের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে রাহুল গান্ধী বলেন, “প্রশ্নটা একেবারেই অমিত শাহের সংসদে এসে সাধারণ বিষয়ে ভাষণ দেওয়া সংক্রান্ত নয়। প্রথম প্রশ্নই হলো, ২০ জুনের বিক্ষোভে দিল্লির ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি ও পেলেট গান চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল?”
শাহকে দুই বিকল্পের মুখে দাঁড় করিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, “যদি উনি স্বয়ং এই নির্দেশে সই করে থাকেন, তবে দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর অপরাধে উনি সরাসরি দোষী। আর যদি উনি এই ঘটনার ব্যাপারে কিছু না জেনে থাকেন, তবে তা ওঁর চরম অক্ষমতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ। দুটি ক্ষেত্রেই ওঁর পদে থাকার কোনো অধিকার নেই, ওঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।”
বিরোধীদের ৩টি মূল দাবি
সংসদে বিরোধীদের তরফ থেকে উত্থাপিত তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবির কথা উল্লেখ করেছেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে:
১. পুলিসি বলপ্রয়োগের জবাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে এসে স্পষ্ট করতে হবে কেন শান্তিকামী ছাত্রদের দমনে পেলেট গান, টিয়ার গ্যাস এবং তারকাঁটা লাগানো লাঠি ব্যবহার করা হলো।
২. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা: ছাত্র নিগ্রহের ঘটনার ওপর এবং সমস্ত ঘটনার দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. রাম মন্দির সংক্রান্ত তদন্ত: রাম মন্দির তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ওঠা চুরির অভিযোগের বিষয়ে সত্য উন্মোচন করতে হবে।
ঝাড়খণ্ডের ছাত্রদের প্রতি বার্তা
দিল্লির পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডেও চলমান ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাহুল। তিনি জানান, যে রাজ্যেই ঘটুক না কেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো ধরনের পুলিশি হিংসাকে কংগ্রেস সমর্থন করে না। ঝাড়খণ্ড সরকারকেও শিক্ষার্থীদের দাবি মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত সমাধানের পথ বের করার পরামর্শ দেন তিনি।
সরকারের পাল্টা বক্তব্য ও অচল অবস্থা
অন্যদিকে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সরকারের পক্ষ থেকে জানান যে কেন্দ্র সরকার শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের যেকোনো সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় পুরোপুরি তৈরি। তিনি বলেন, বিরোধী দল যা প্রশ্ন তুলবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে সংসদে দাঁড়িয়ে তার জবাব দেবেন। কিন্তু বিরোধীদের ক্রমাগত হট্টগোল ও অধিবেশন ব্যাহত করার চেষ্টার নিন্দা জানান তিনি।
তবে বিরোধীদের অবস্থান অনড়। রাহুল গান্ধীর মতে, মূল প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাধারণ আলোচনা চালিয়ে আসল দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতেও যে এই উত্তাপ কমছে না, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
(Feed Source: zeenews.com)
