
Typhoon Dolphin: সাংহাইয়ের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের দুটি প্রধান যাত্রী বিমানবন্দরে ৯৪৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে জন পরিবহণ ব্য়বস্থা
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতিবেগে নিয়ে চিনে আছড়ে পড়ল টাইফুন ‘ডলফিন’। প্রাণ বাঁচতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সরে যেতে হয়েছে ১৫ লাখ মানুষকে। তছনছ সাংহাই, উত্তর ফুজিয়ান, উত্তর-পূর্ব জিয়াংসি,মধ্য ও দক্ষিণ আনহুই এবং জিয়াংসু প্রদেশ। বেশিরভাগ অঞ্চলেই চলছে ভারী বৃষ্টিপাত। রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ রাক্ষুসে ওই টাইফুন আছড়ে পড়ে ঝোঝিয়াং প্রদেশে। এবছর এত শক্তিশালী টাইফুনের কবলে আর পড়েনি চিন।
উল্লেখ্য, এর আগে ভয়ংকর এই ঝড়টি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যায়। তার জেরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় চিনে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ঝড়ের আশঙ্কায় আগেই দক্ষিণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ১০ লাখ মানুষকে। শুধুমাত্র ওয়েনঝৌ শহরেই ৯ লাখেরও বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
সাংহাইয়ের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের দুটি প্রধান যাত্রী বিমানবন্দরে ৯৪৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে জন পরিবহণ ব্য়বস্থা। টাইফুনের প্রভাব “এখনও পুরোপুরি কেটে না যাওয়ায়” কিছু বিমানের উড়ানে দেরি হতে পারে বা বাতিল হতে পারে। বৃষ্টির দরুন সোমবার বেইজিংয়ের পাঁচটি জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। টাইফুন ‘ডলফিন’-এর কারণে সপ্তাহান্তে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়, যার ফলে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফুচিয়েন প্রদেশে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি এবং সাংহাইয়ে ২ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। গত মাসেও চিনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বেশ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে টাইফুন। দক্ষিণ কুয়াংসি অঞ্চলে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর কারণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জন প্রাণ হারান। তাছাড়া ‘মায়সাক’-এর ফলে সৃষ্ট বজ্রঝড় ও প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ায় মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হন।
মৌসুমী বায়ুর উপরে প্রভাব
এদিকে, ভারত থেকে ৪০০০ কিলোমিটার দূরে ডলফিন তাণ্ডব চালালেও ভারতে এক খুব খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এর জেরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে ভারতের মৌসুমী বায়ু। এর জেরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই আবহাওয়ার উপরে প্রবল প্রভাব ফেলতে পারে।
উপগ্রহ ছিত্র দেখা যাচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে ভারতীয় মৌসুমী বায়ু অঞ্চলের সংযোগকারী বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলীয় চলাচলকে প্রভাবিত করতে পারে টাইফুন ডলফিন। ঠিক এখানেই এল নিনোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এল নিনো জাতীয় পরিস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের মেঘ এবং বায়ুর চলাচলের দিকটি পূর্ব দিকে সরে যায়। এটি ‘ওয়াকার সার্কুলেশন’ এবং ভারত মহাসাগরে পৌঁছানো বায়ুমণ্ডলীয় তরঙ্গকে পরিবর্তিত করতে পারে। ফলে ভারতীয় ভূখণ্ডে মেঘের ঘনীভবনকে তা ব্যাহত করতে পারে। যার জেরে ভারতের বৃষ্টিবাহী মেঘ গড়ে ওঠার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ভারতের বর্ষাকালের বেশিরভাগ নিম্নচাপ সৃষ্টির প্রধান কেন্দ্র হল বঙ্গোপসাগর। সেখানেই প্রভাব ফেলতে পারে এই পরিস্থিতি। প্রশান্ত মহাসাগর যে সবসময় ভারতীয় মৌসুমি বায়ুকে সরাসরি বাধা দেয়,তা কিন্তু নয়। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের আবহাওয়া সংক্রান্ত ওলটপালট বা অশান্ত পরিস্থিতি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
