)
State Bank Locker: রেশমি অরোরা জানান, সেই লকারে তাঁর বিয়ের গয়না ও পরিবারের বহু মূল্যবান সোনার অলঙ্কার রাখা ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সাধারণ মানুষ তাঁদের জীবনের সঞ্চয় এবং মূল্যবান অলঙ্কার অত্যন্ত নিরাপদ মনে করেই ব্যাংকের লকারে গচ্ছিত রাখেন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় ব্যাংকের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিরাট প্রশ্নচিহ্ন উঠে এসেছে। কানপুরের এক বৃদ্ধা অভিযোগ করেছেন, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) লকার থেকে তাঁর ৫০ লাখ টাকার সোনার গয়না রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
কানপুরের কৌশলপুরীর বাসিন্দা রেশমি অরোরা ২০০৩ সালে স্বরূপ নগরের ‘স্টেট ব্যাংক অফ ট্রাভাঙ্কোর’ শাখায় একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং ২৩ নম্বর লকার পান। পরবর্তীতে স্টেট ব্যাংক অফ ট্রাভাঙ্কোর স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র সঙ্গে মার্জ হয়ে যায়। রেশমি অরোরা জানান, সেই লকারে তাঁর বিয়ের গয়না ও পরিবারের বহু মূল্যবান সোনার অলঙ্কার রাখা ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
২০১১ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর হৃদরোগে আক্রান্ত রেশমিদেবী লখনউয়ে তাঁর মেয়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। তবে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত লকার চার্জ কাটা হচ্ছিল। ব্যাংকের মার্জার সংক্রান্ত বিষয় জানার পর জুলাই ২০২৬-এ মেয়ে তৃপ্তি কল্যাণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ব্যাংকে যান। শুরুতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে, তাঁর নামে ওই শাখায় কোনও লকার নেই।
ফাঁকা লকার
পরবর্তী সময়ে জটিলতা কাটিয়ে গত ২৭ জুলাই চাবি দিয়ে লকারটি খোলেন বৃদ্ধা। কিন্তু লকার খুলতেই তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে—ভেতরে ৫০ লাখ টাকার গয়নার এক কণাও অবশিষ্ট ছিল না। পুরো লকারটিই একেবারে ফাঁকা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে এবং চরম গাফিলতির অভিযোগ এনে রেশমি অরোরা কানপুর পুলিস কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানান। পুলিস কমিশনারের নির্দেশে স্বরূপ নগর থানা পুলিস স্টেট ব্যাংকের ওই শাখার ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
লকার অ্যাক্সেস
ঘটনাটিতে নতুন মোড় আসে ব্যাংকের রেজিস্টার পরীক্ষার পর। পুলিস ও ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী দেখা গেছে, ২০২০ সালে সংশ্লিষ্ট লকারটি দু’বার খোলা বা অ্যাক্সেস করা হয়েছিল। যদিও রেশমিদেবী ও তাঁর মেয়ের দাবি, তাঁরা বা তাঁদের পরিবারের কেউ ২০২০ সালে ওই লকার খোলেননি। কার উপস্থিতিতে বা কার চাবিতে সেই লকারটি ২০২০ সালে খোলা হয়েছিল, পুলিশ এখন তা খতিয়ে দেখছে।
ব্যাংক লকারের নিরাপত্তা
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা ব্যাংকের লকার সুরক্ষার নিয়মাবলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রবেশের রেজিস্টার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে কানপুর পুলিস। লকারের নিরাপত্তা নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকের কঠোর নিয়ম থাকলেও এই ধরনের ঘটনা ব্যাংকিং পরিষেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থায় বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
