ভারতের কোন রাস্তায় একসঙ্গে পাহাড়-বরফ-সাগর-মরুভূমি দেখা যায়? উত্তর দিতে ব্যর্থ ৯৯ শতাংশ!

ভারতের কোন রাস্তায় একসঙ্গে পাহাড়-বরফ-সাগর-মরুভূমি দেখা যায়? উত্তর দিতে ব্যর্থ ৯৯ শতাংশ!

ভারতে এমন একটি জাতীয় সড়ক রয়েছে যার যাত্রা পথ জানলে সত্যিই অবাক হবেন। কারণ এই সড়কের যাত্রা পথে একই রাস্তার মধ্যে পড়বে পাহাড়া-বরফ-সাগর-নদী-মরুভূমির রাজ্য সবকিছুই। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

প্রতিযোগিতামূলক ও চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের জানা-অজানা নানা তথ্য যেমন জ্ঞান বৃদ্ধি করে, তেমনই দৌড়ে এগিয়ে রাখে পরীক্ষার্থীদের। সম্প্রতি ইন্টারনেট দুনিয়ায় এমনই একটি কৌতূহল তৈরি করা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, যার উত্তর জানা মনে হলেও অধিকাংশ মানুষই ভুল উত্তর দিয়ে বসছেন। তেমনই একটি প্রশ্ন হল ভারতের কোন রাস্তায় একসঙ্গে পাহাড়-বরফ-সাগর-মরুভূমি দেখা যায়? এর উত্তর দিতে গিয়ে কালঘাম ছুটেছে অনেকের।

১৪০ কোটির বিপুল জনসংখ্যার দেশে যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা জাতীয় অর্থনীতির প্রাণশক্তি। ভারতীয় রেলের পাশাপাশি সড়ক পথও দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। ভারতের আধুনিক ও উন্নত সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা শুধু দূরত্বের ব্যবধান কমায়নি, বরং দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শিল্পসমৃদ্ধ শহরগুলোকে একটি সূত্রে গেঁথেছে।

পথ সুগম করতে ভারতজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে প্রায় ৫৯৯টি জাতীয় সড়ক। তবে এই বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্যে এমন একটি বিশেষ হাইওয়ে রয়েছে, যার যাত্রাপথ সত্যি বিস্ময়কর। কেবল একটি রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলেই চোখের সামনে একে একে ভেসে উঠবে হিমশীতল পাহাড়, তুষারপাত, দিগন্তবিস্তৃত মরুভূমি, নদ-নদী এবং সবশেষে উত্তাল মহাসাগরের মিলনস্থল।

বিস্ময়কর এই পথটি হলো ভারতের দীর্ঘতম সড়ক পথ ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে ৪৪’ (NH 44), যা পূর্বে ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে ৭’ নামে পরিচিত ছিল। উত্তর ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বরফাবৃত শ্রীনগর থেকে শুরু করে দীর্ঘ চার হাজার ১১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দেশের একদম শেষ প্রান্তের তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীতে গিয়ে মিশেছে এই কৃষ্ণবর্ণের পিচঢালা পথ।

দীর্ঘ এই রোমাঞ্চকর সফরে একইসঙ্গে উপভোগ করা যায় ভারতের অপরূপ প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য। শ্রীনগর থেকে যাত্রা শুরু করে পথটি জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ু—মোট ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

অভিযাত্রীদের এই যাত্রাপথে দেখা মেলে দিল্লি, আগ্রা, নাগপুর, হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুর মতো বিখ্যাত শহর এবং অজস্র ঐতিহাসিক স্থানের। ভারতের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এই অনন্য পথটি শুধুমাত্র একটি জাতীয় সড়ক নয়, বরং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে সমগ্র ভারতবর্ষকে বুকে ধারণ করে রেখেছে।

(Feed Source: news18.com)