)
Polish Tourist Bus Crash in Hungary: পুণ্যার্থী তথা তীর্থযাত্রীর মৃত্যু বাংলা বিহারের সঙ্গে জুড়ে দিল হাঙ্গেরিকেও। বিশ্বের নানা প্রান্ত মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মোট ২৬ জনের মৃত্যু ঘটল। বিহারে ৮ কাঁওয়াড়যাত্রীর পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, বাংলার তারাপীঠে এক হোটেলে শ্রাবণ সোমে জমায়েত হওয়া ভক্তদের মধ্যে কয়েকজনের আগুনে পুড়ে মৃত্যু ঘটল। প্রসঙ্গত এর আগে ২০০২ সালের জুলাই মাসে হাঙ্গেরির পশ্চিমাঞ্চলে লেক বালাটনের কাছে পোলিশ তীর্থযাত্রীদের একটি বাস উল্টে ২০ জন নিহত হয়েছিলেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পুণ্যার্থী তথা তীর্থযাত্রীর মৃত্যু বাংলা বিহারের সঙ্গে জুড়ে দিল হাঙ্গেরিকেও। বিশ্বের নানা প্রান্ত মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মোট ২৬ জনের মৃত্যু ঘটল। বিহারে ৮ কাঁওয়াড়যাত্রীর পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, বাংলার তারাপীঠে এক হোটেলে শ্রাবণ সোমে জমায়েত হওয়া ভক্তদের মধ্যে কয়েকজনের আগুনে পুড়ে মৃত্যু ঘটল। এদিকে খাদে বাস পড়ে মারা গেলেন আর এক দল পুণ্যার্থী। পূর্ব হাঙ্গেরিতে ৫৭ জন তীর্থযাত্রীবাহী একটি পোলিশ বাস জাতীয় সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বেঁচে ফেরা এক যাত্রী এ দুর্ঘটনাকে ‘কল্পনাতীত’ বলে বর্ণনা করেছেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, রাত আনুমানিক একটার দিকে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খাদে পড়ে উল্টে যায়।
হাঙ্গেরির পুলিস জানিয়েছে, পূর্ব হাঙ্গেরির মেজোকেরেস্তেস শহরের কাছে নাইরেগিহাজা শহরের দিকে যাওয়ার পথে ভয়ংর এই বাস দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, পোল্যান্ডের বাসটি সোজা রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে উল্টে যায় খাদে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চালক সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁকে পুলিস আটক করেছে। বাসটিতে দুজন চালক ছিলেন। বসনিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মেদজুগোরিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘ভার্জিন মেরি’র একটি উপাসনালয় থেকে পোল্যান্ডে ফিরছিল বাসটি। দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আশপাশের অবস্থিত চারটি শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভয়ংকর আঘাত
পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত লুবেনিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা এবং দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা যাত্রী হেলেনা তলুচেক হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জানান, তিনি পোল্যান্ডে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। এমন সময় বাসটি হঠাৎ উল্টে যায় এবং নীচে গড়াতে থাকে। দুর্ঘটনায় তাঁর পাঁজর ভেঙে গেছে এবং কাঁধ ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি। মাথায় আঘাত পেলেও দুর্ঘটনার কিছু স্মৃতি তাঁর মনে আছে।
চাপা পড়ে চিৎকার
আর এক যাত্রী বলেন, বাসের সব আসন উপড়ে গিয়েছিল। মানুষজন সব সিটের নীচেই চাপা পড়েছিল এবং সবাই বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল।’ তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া দুই যাত্রীকে টেনে বের করেন এবং নিজে কোনোমতে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে বাস থেকে বের হন। অচেতন হওয়ার আগে তিনি তাঁর বোনকেও টেনে বের করতে পেরেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমি পেছনে তাকালাম…বাসের ভেতরের অবস্থা যে কী ভয়াবহ ছিল, তা কল্পনাও করা যায় না।’
লখিসরাই অশোকধাম মন্দিরে
শ্রাবণ মাসের পবিত্র সোমবারে বিহারের লখিসরাইয়ের বিখ্যাত অশোকধাম মন্দিরে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শিবের মাথায় জল ঢালতে এবং পুজো দিতে ভোর থেকেই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছিল। সেই বিপুল ভিড়ের মধ্যেই হঠাৎ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।
তারাপীঠে আগুন
তারাপীঠের এক বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ আগুন। আগুনে দগ্ধ হয়ে ঝলসে মৃত্যু ৬ পুণ্যার্থীর। দগ্ধ হয়েছেন আরও কয়েকজন। আগুনে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অসুস্থ বহু। আজ, সোমবার শ্রাবণের শেষ সোমবারের সকালে তারাপীঠ থানার ঢিলছোড়া দূরত্বে পুকুরের ধারে ‘বিদিশিনি’ নামের ওই হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন দমকল বাহিনীর কর্মীরা।
(Feed Source: zeenews.com)
